ঢাকা থেকে বুড়িমারী অভিমুখে যাওয়ার পথে একটি চলন্ত বাসে প্রসব বেদনা শুরু হয় এক নারী যাত্রীর। সোমবার ভোরে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় পৌঁছালে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত বাসটি একটি পেট্রলপাম্পের সামনে থামান সুপারভাইজার মজনু মিঞা। এরপর বাসের ভেতর থেকে পুরুষ যাত্রীদের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং একজন ধাত্রী ও অন্যান্য নারী যাত্রীদের সহায়তায় বাসের ভেতরেই সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান।
সন্তান প্রসবের পর মা ও নবজাতককে বড়খাতা এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই মানবিক ঘটনার আনন্দ ভাগ করে নিতে বাসের সুপারভাইজার ও সহযাত্রীরা মিষ্টি বিতরণ করেন। শিশুটির মা আবিদা বেগম (২৮) তার পরিবারের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। তার বাবা আবেদ আলী জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও কিছুদিন সময় বাকি থাকলেও তারা বাড়ি ফিরছিলেন, যার ফলে পথেই এই প্রসব ঘটে। তিনি জানান, তার মেয়ে এবং নাতি দুজনেই বর্তমানে সুস্থ আছেন। চালক, সুপারভাইজার এবং সহযাত্রীদের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে, যেহেতু শিশুটি বাসে জন্মগ্রহণ করেছে, তাই তার নাম রাখা হয়েছে ওই পরিবহনের নামানুসারে— 'আনাস হাসান'। এই খবর জানতে পেরে পরিবহনের মালিক দিপু মিঞা এক অনন্য ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, শিশুটি আজীবন এবং তার মা শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত 'আনাস এন্টারপ্রাইজের' যেকোনো বাসে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
ঘটনার পর বুধবার দুপুরে সুপারভাইজার মজনু মিঞা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় শিশুটির পরিবারের কাছে মালিকের পাঠানো বিশেষ উপহার পৌঁছে দেন, যার ফলে বিষয়টি আরও জানাজানি হয়। স্থানীয় ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজল রহমান খোকন নিশ্চিত করেছেন যে, মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন।




