সারা দেশে রাত ১১টার মধ্যে বার ও মদ পরিবেশন বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি অভিন্ন নীতিমালা তৈরির বিষয়টি বিবেচনার জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু বৃহস্পতিবার জনস্বার্থে এই আবেদনটি পেশ করেন। রিট আবেদনে কেবল সময়সীমা নয়, বরং অবৈধ বার পরিচালনা, নিয়মবহির্ভূতভাবে মদ বিক্রি, পারমিট লঙ্ঘন, পাচার এবং শুল্ক ফাঁকির মতো অপরাধগুলো প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ জনঅভিযোগ ব্যবস্থা চালু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি আদেশে যেসব বারের জন্য রাত ১১টায় বন্ধ হওয়ার নিয়ম নির্ধারিত রয়েছে, তা যেন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়। এছাড়া সারাদেশে যদি বার বন্ধের কোনো অভিন্ন সময়সীমা না থাকে, তবে রাত ১১টার মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার একটি সাধারণ নীতিমালা তৈরি করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আদালত যেন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন, সেই আবেদনও করা হয়েছে।
এই রিটে বিবাদী হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনজীবী জুলফিকার জানান, ওয়্যারহাউস থেকে মদ কিনে কর ফাঁকি দিয়ে বিক্রির প্রবণতা বন্ধ করা, অনুমতিবিহীন ব্যক্তিদের মাঝে মদ বিতরণ রোধ এবং রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধের নিয়ম কার্যকর করাই এই আবেদনের মূল লক্ষ্য।
রিট আবেদনে আরও চাওয়া হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়া কোনো বার বা মদ পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান যেন পরিচালিত হতে না পারে। কোনো হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্লাব বা বিনোদন কেন্দ্র যদি অনুমোদিতও হয়, তবুও আইন অনুযায়ী আলাদা অ্যালকোহল লাইসেন্স বা অনুমতির প্রয়োজনীয়তা থাকলে তা নিশ্চিত করতে হবে। বৈধ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ, হালনাগাদ এবং নিয়মিত ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শনের কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সন্দেহভাজন পাচার, অবৈধ আমদানি বা শুল্ক ফাঁকির বিষয়ে কাস্টমস ঘোষণা, আমদানি নথি, ইনভয়েস এবং মজুদের কাগজপত্র যাচাই করে তদন্ত করেন। এছাড়া অনুমোদনহীন ডিজে অনুষ্ঠান বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রমের অভিযোগ তদন্ত করে আইন ও লাইসেন্সের শর্ত অথবা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার প্রমাণ মিললে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।




