বরিশালের উজিরপুরে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ছোট্ট মেয়েটি আবারও তার বিদ্যালয়ে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা মেয়েটিকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই মেয়েটি তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। এই সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন তার মা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ইউএনও মো. আলী সুজা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মেয়েটির স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির জানান, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী এবং বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর থেকে সে স্কুলে আসছিল না। তাকে সাদরে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে উজিরপুরের একটি বাজারে চুরির অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এক ব্যক্তিকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলেন। শনিবার সকালে তার ৯ বছর বয়সী মেয়েটি সেখানে পৌঁছে বাবাকে আর মারধর না করার আকুতি জানায় এবং পাউরুটি ছিঁড়ে চায়ে ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দেয়। এই ঘটনার ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা হয় এবং অনেকেই পরিবারটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।
পরিবারটির সামগ্রিক উন্নতির কথা মাথায় রেখে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ওই ব্যক্তিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বরিশাল নগরের একটি বেসরকারি মাদকসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তিন মাস চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে প্রশাসন। ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, পরিবারটির সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি মেয়েটির শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের আর্থিক সহায়তা এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মেয়েটির পড়াশোনার খরচ মেটানোর জন্য তার মায়ের নামে একটি স্থায়ী আমানত তৈরি করা হবে।
পাশাপাশি ওই ব্যক্তির স্ত্রীর জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। এছাড়া মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর ওই ব্যক্তির জন্যও চাকরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, সমাজের সব সমস্যা হয়তো সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে একটি পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে একটি ইতিবাচক উদাহরণ বা মডেল তৈরি করা সম্ভব, আর সেটিই তাঁর লক্ষ্য। এই মানবিক উদ্যোগের জন্য ইউএনওর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেয়েটির মা বলেন, প্রশাসনের এই সহায়তা না পেলে তার পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যেত এবং মেয়ের পড়াশোনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেত।




