চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকার ক্যানটিনগুলোতে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক বিশেষ অভিযানে দেখা যায়, রুটি তৈরির খামিরে তেলাপোকা রয়েছে। এই গুরুতর অনিয়মের দায়ে হাসপাতাল এলাকার দুটি ক্যানটিনকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন দেখা যায়, দুপুরের খাবারের ভিড়ে যখন রোগী ও তাদের স্বজনরা খাবার খাচ্ছিলেন, তখন রান্নাঘরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা। বিশেষ করে চমেক ক্যাফে রেস্তোরাঁয় ফ্রিজের ভেতরে কাঁচা মাছ ও মাংসের পাশাপাশি রান্না করা তরকারি রাখা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ক্যানটিনে খাবার প্রস্তুত এবং পরিবেশনের স্থানগুলো ছিল অপরিচ্ছন্ন। হাসপাতালের কর্মী, নার্স এবং ভর্তি রোগীদের স্বজনরা নিয়মিত এসব ক্যানটিন থেকে খাবার গ্রহণ করেন, তাই খাবারের মান ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই অভিযান কেবল ক্যানটিনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, হাসপাতালের আশেপাশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও নজরদারি করা হয়। মূল্যতালিকা না থাকা এবং ডাবের দাম অতিরিক্ত নির্ধারণ করায় মেডিকোপ সুপার শপকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ এবং বিদেশি অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির অভিযোগে জেবিএল সার্জিক্যাল ইউনিট-২ কে ২৫ হাজার টাকা এবং স্বপ্না মেডিকেল স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণে এই ধরনের গাফিলতি রোগী এবং তাদের পরিজনদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এসব অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতেই শাস্তিমূলক জরিমানা করা হয়েছে।