বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো চমকপ্রদ সংবাদ দেখলে আমরা অনেকেই সত্যতা যাচাই না করেই তা অন্যদের সাথে শেয়ার করে ফেলি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছড়িয়ে দেওয়া তথ্যগুলো ছিল নিছক গুজব, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মূলত পরিচিত কেউ তথ্যটি পাঠালে কিংবা সংবাদের সাথে ছবি ও ভিডিও যুক্ত থাকলে আমরা সেটিকে সহজেই বিশ্বাসযোগ্য মনে করি। এছাড়া কোনো তথ্য বিপুল সংখ্যক মানুষ শেয়ার করলেও আমরা ধরে নিই সেটি সত্য। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন; কোনো তথ্য বারবার প্রচারিত হলেই তা সত্য হয়ে যায় না, এমনকি ছবির পেছনের প্রকৃত ঘটনাও ভিন্ন হতে পারে। ভুল তথ্য ছড়ানোর ফলে শেয়ারকারীর ওপরও দায়ভার বর্তায়।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই অপতথ্যের প্রভাব অত্যন্ত গভীর, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর। ইউনিসেফ বাংলাদেশের ২০২৫ সালের একটি জরিপ এই বিষয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য প্রদান করেছে। প্রায় ২৯ হাজার শিশু ও তরুণের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে দেখা গেছে, প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনেরও বেশি সামাজিক মাধ্যমের অতিরিক্ত ভুয়া তথ্য ও অপতথ্যকে তাদের মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর থেকে স্পষ্ট যে, ভুল তথ্য কেবল বিভ্রান্তিই তৈরি করে না, বরং তরুণদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

তাই যেকোনো খবর শেয়ার করার আগে কিছু মৌলিক বিষয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সংবাদের উৎসটি নির্ভরযোগ্য কি না, কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে কি না, এবং প্রকাশের তারিখ সঠিক কি না তা খতিয়ে দেখা উচিত। পাশাপাশি ছবির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। যদি কোনো তথ্যের বিষয়ে সামান্যতম সন্দেহ থাকে, তবে সেটি শেয়ার না করাই শ্রেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া মানে কেবল ইতিবাচক কথা বলা নয়, বরং সঠিক এবং সত্য তথ্য প্রচার করা। একটি ভুল তথ্য খুব দ্রুত বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, কিন্তু সামান্য সতর্কতার মাধ্যমেই সেই অপপ্রচারের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তথ্য শেয়ার করা যতটা সহজ, ভুল তথ্যের কারণে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করা ততটাই কঠিন। তাই চমকপ্রদ কোনো খবর দেখলেই তা দ্রুত শেয়ার না করে আগে যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।