কলকাতার ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) একটি ব্যানারে ওই ছাত্রীরা 'কটু' কথা লিখেছিলেন। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যানারে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিল। কেবল বহিষ্কারই নয়, অভিযুক্ত দুই ছাত্রীকে এই প্রতিষ্ঠানের যেকোনো ডিগ্রি কোর্সে ভবিষ্যতে ভর্তির সুযোগ থেকেও চিরতরে বঞ্চিত করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে একজন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত স্নাতকোত্তর ছাত্রী এবং অন্যজন সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে পোস্ট-স্টুডেন্টশিপের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

গত ১৩ অক্টোবর এই ঘটনাটি ঘটে। পরদিনই এবিভিপির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যের একটি অধ্যাপক কমিটি গঠন করেন এবং ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্ত কমিটি ২৮ অক্টোবর প্রথম বৈঠক করে এবং ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ৫ নভেম্বর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পরপরই দুই ছাত্রীর কাছে বহিষ্কারের চিঠি পাঠানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর ওই ছাত্রীরা ব্যানারে কটু কথা লিখেছিলেন বলে কমিটি নিশ্চিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবজ্যোতি কোনার সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘকাল ধরে সুশীল একাডেমিক চর্চা ও তর্কের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এই আদর্শ রক্ষা করার লক্ষ্যে যেকোনো চিন্তাবিদ, মতাদর্শ কিংবা সংগঠনের প্রতি গালিগালাজ বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

তবে এই কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এসএফআই, আরএসএফ, আইসা এবং এআইডিএসও-র মতো ছাত্রসংগঠনগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের ভাঙচুর বা বিকৃতির নিন্দা করে। তবে অপরাধের তুলনায় এই শাস্তি অত্যন্ত প্রতিশোধমূলক এবং মাত্রাতিরিক্ত, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করে দেওয়ার শামিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, এবিভিপির দাবি, বামপন্থীদের উসকানিতেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং স্বামী বিবেকানন্দের মতো ব্যক্তিত্বকে তাঁর প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অপমান করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দুই শতাব্দীর পুরোনো এই উদারমনস্ক প্রতিষ্ঠানের এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।