সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ এবং তা মুছে ফেলতে অস্বীকার করায় এক বন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। এই অপরাধের দায়ে কুয়েতের ফৌজদারি আদালত অভিযুক্ত ওই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছেন। গত মঙ্গলবার মামলার শুনানি শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় প্রদান করেন।

প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ওই প্রবাসী বাংলাদেশির এক বন্ধু তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন। ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বন্ধুটি তা মেনে নেননি। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েই পূর্বপরিকল্পিতভাবে বন্ধুকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামি প্রথমে নিশ্চিত হন যে ভুক্তভোগী ব্যক্তিটি কর্মস্থলের ভেতরে আছেন। এরপর তিনি একটি ধারালো ছুরি নিয়ে বাইরে ওত পেতে অপেক্ষা করেন। ভুক্তভোগী ব্যক্তিটি কর্মস্থল থেকে বাইরে বের হওয়া মাত্রই তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান আসামি। তিনি ভুক্তভোগীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে বারবার ছুরিকাঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আদালতে বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত প্রবাসী বাংলাদেশি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার আগে তারা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে একটি সফরের সময় ওই বন্ধু তাঁর অজান্তেই তাঁর স্ত্রীর কিছু ছবি তোলেন এবং পরবর্তীতে অনুমতি ছাড়াই সেগুলো ফেসবুকে পোস্ট করেন। ওই ছবিগুলোর নিচে আপত্তিকর মন্তব্য আসা শুরু হলে আসামি বন্ধুকে ছবিগুলো ডিলিট করতে বলেন। কিন্তু বন্ধুটি তা না করে উল্টো আরও ছবি পোস্ট করতে থাকেন। এই পরিস্থিতি আসামি এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই প্রাণঘাতী আক্রমণের পথ বেছে নেন। সবদিক বিবেচনা করে আদালত তাকে ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।