মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের বার্ষিক ‘ফোর্বস ফোর হান্ড্রেড’ তালিকায় এবার এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। ৪০ বছরের কম বয়সী বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা ২০২৫ সালের চারজন থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই তালিকায় স্থান পাওয়া ১০ জন তরুণের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের মূল্যায়নের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই ১০ জনের মধ্যে সাতজনেরই বিপুল সম্পদের পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবসায়িক সাফল্য।
সম্পদের দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী লুকাস ওয়ালটন। তবে প্রযুক্তির বদলে পারিবারিক উত্তরাধিকার তাঁর সম্পদের মূল কারণ। ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের নাতি ও জন ওয়ালটনের একমাত্র সন্তান লুকাস বর্তমানে ৪৪.৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক। তিনি বিল্ডার্স ভিশন নামক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিকাগো বুলস বাস্কেটবল দলের কিছু মালিকানা ধারণ করেন।
এআই খাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে বাকি সদস্যদের ক্ষেত্রে। ওপেনএআই-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান (৩৭) তালিকার দ্বিতীয় ধনী, যার সম্পদ ২৫.৫ বিলিয়ন ডলার। তাঁর বিনিয়োগের বড় অংশ ওপেনএআই-এর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং স্ট্রাইপ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। এছাড়া সার্জ এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা এডউইন চেন (৩৮) ১৮ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানটি এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ ও মূল্যায়ন করে, যা গুগল ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অ্যানথ্রপিক নামক এআই প্রতিষ্ঠানের প্রভাব এই তালিকায় অত্যন্ত স্পষ্ট। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত চারজন তরুণ বিলিয়নিয়ারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। টম ব্রাউন (৩৯) ও ড্যানিয়েলা আমোদেই (৩৯), উভয়েরই সম্পদ ১৫.৫ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া জ্যাক ক্লার্ক (৩৭) ও স্যাম ম্যাকক্যান্ডলিশ (৩৬)-এর সম্পদের পরিমাণও ১৫.৫ বিলিয়ন ডলার। এঁরা সবাই একসময় ওপেনএআই-তে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
প্রতিরক্ষা ও সফটওয়্যার প্রযুক্তিতেও নতুন দিগন্ত খুলেছে এআই। ৩৩ বছর বয়সী পামার লাকির প্রতিষ্ঠিত 'আন্দুরিল' স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ও এআই সফটওয়্যার তৈরি করে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সাথে ২০ বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পর তাঁর সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৫.৯ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, তালিকার সবচেয়ে কমবয়সী সদস্য ৩০ বছর বয়সী স্টিভেন হাও। তাঁর প্রতিষ্ঠান 'কগনিশন'-এর এআই এজেন্ট 'ডেভিন' স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং করতে পারে। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫.৮ বিলিয়ন ডলার।
এআই-এর বাইরে রবিনহুড অ্যাপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদ তেনেভ (৩৯) ৭.১ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাঁর সম্পদের উৎস মূলত ব্রোকারেজ সেবা এবং প্রেডিকশন মার্কেট। ফোর্বসের এই তালিকাটি প্রমাণ করে যে, এআই সফটওয়্যার, মডেল ট্রেনিং এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বর্তমান প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য দ্রুত সম্পদ গড়ার নতুন পথ খুলে দিয়েছে।




