বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বুলিং বা মানসিক হয়রানির হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি জেসন ওয়াকার, জাহরা মোরাদি এবং ডেবোরা সিরকোর পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই হয়রানির হার ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত, যা জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী উচ্চ-চাপযুক্ত পেশাদারদের সমান। সাধারণত কর্মক্ষেত্রে বুলিং ওপরের স্তর থেকে নিচের স্তরে হয়, তবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। ভালো গ্রেড পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করছে, গবেষকরা সেটিকে 'কন্ট্রাপাওয়ার হ্যারাসমেন্ট' বা বিপরীত ক্ষমতাগত হয়রানি বলে অভিহিত করেছেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষক ও কর্মীরা প্রধানত দুই ধরনের হয়রানির শিকার হন—প্রথমত তাদের সহকর্মী ও উর্ধ্বতনদের কাছ থেকে এবং দ্বিতীয়ত গ্রেডের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৩০ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর গ্রেড বাড়ানোর জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। এর মধ্যে হুমকি দেওয়া, গ্রেড আপিলের ভয় দেখানো, অনলাইনে নেতিবাচক রিভিউ লেখা, আবেগীয় কারসাজি এবং ভয় দেখানোর মতো কৌশল ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে অভিজ্ঞ বা সিনিয়র শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এই হয়রানির শিকার বেশি হন। অন্যদিকে, জুনিয়র শিক্ষক ও কর্মীরা তাদের সহকর্মীদের দ্বারা বেশি হেনস্থার সম্মুখীন হন। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু বর্ণের ব্যক্তিরা এই হয়রানির প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সাধারণ কর্মক্ষেত্রে বুলিং, যৌন হয়রানি এবং নির্যাতনের হার যেখানে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তা দ্বিগুণ বা তার বেশি। এই সমস্যা কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার গুণগত মান কমিয়ে দেয়। ক্রমাগত এই মানসিক চাপের ফলে শিক্ষকদের মধ্যে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং কর্মতৃপ্তি হ্রাস পাওয়ার মতো গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া সহকর্মীদের মধ্যে হয়রানির ধরনগুলো অনেক সময় সূক্ষ্ম হয়, যেমন—অপরিচালনযোগ্য কাজের চাপ দেওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করা কিংবা অসম্ভব সময়সীমা বেঁধে দেওয়া।

কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের ১৮৯ জন শিক্ষক ও কর্মীর ওপর পরিচালিত এই বেনামী সমীক্ষাটি অক্টোবর ২০২৬-এর 'জার্নাল অফ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ অ্যান্ড প্র্যাকটিস'-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত সবার জন্য আচরণের কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার মাধ্যমে এই সমস্যার মূল কারণ এবং এর স্থায়ী সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা ফিরে পান এবং সুস্থ পরিবেশে পাঠদান করতে পারেন।