বাংলাদেশে চীনের বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের পথ প্রশস্ত হলো দেশীয় প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলসের মাধ্যমে। সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে কারিগরি সহযোগিতার একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদও অনুমোদন দিয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানটি গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। আজ রোববার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—এর মাধ্যমে এসব মূল্য সংবেদনশীল তথ্য শেয়ারধারীদের জানানো হয়েছে।
চূড়ান্ত অনুমোদনের অংশ হিসেবে রানার তাদের অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে ২০০ কোটি টাকা থেকে এটি ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ছেড়ে ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি। এই মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ পরবর্তীকালে ইকুইটি বা মূলধন হিসেবে রূপান্তরিত হবে। নতুন করে কারখানা সম্প্রসারণ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এই তহবিল বিনিয়োগ করা হবে। তবে এসব পদক্ষেপ কার্যকর হবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর।
কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সনৎ দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, গত মার্চ মাসে বিওয়াইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই-বিষয়ক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ধাপ শেষ হয়ে এখন কারিগরি চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে এখন বাংলাদেশে বিওয়াইডি গাড়ি তৈরির বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। তিনি জানান, নতুন করে মেশিনারিজ স্থাপনসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। উৎপাদন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হওয়া পর্যন্ত বিওয়াইডির গাড়ি আমদানি করে এ দেশে বাজারজাত করবে রানার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যতদিন উৎপাদন শুরু হবে না ততদিন এই আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বাজারে এই অনুমোদনের খবরের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আজ লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় ঢাকার বাজারে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ার লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। এ সময়ে কোম্পানিটির প্রায় ১৫ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ারের হাতবদল হয়েছে। প্রতিটি শেয়ারের দাম আগের দিনের তুলনায় ৬০ পয়সা বা এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৮০ পয়সায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই খবরে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি শুরু করে চীনের সুপরিচিত গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বিওয়াইডি। তখন থেকে তাদের পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে সিজি–রানার বাংলাদেশ লিমিটেড, যা রানার গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। এখন সেই গ্রুপের প্রধান তালিকাভুক্ত কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস সরাসরি গাড়ি তৈরির অনুমোদন লাভ করল। এর ফলে দেশের বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।




