বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব বা ইনফ্লুয়েন্সারদের জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কসমেটিকস ব্র্যান্ডের বাজার এখন তুঙ্গে। হাইলি বিবারের 'রোদ' (Rhode) ব্র্যান্ডের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার কিংবা কাইলির কসমেটিকসের ৫১ শতাংশ শেয়ার কিনতে ৬০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। তবে এই প্রথার বাইরে গিয়ে, চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল একটি স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জনের পরীক্ষা করছে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্ল্যাকস্টোন বর্তমানে 'জেডও স্কিন হেলথ' (ZO Skin Health) নামক প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য হতে পারে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।

২০০৭ সালে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর জেইন ওবাগি এই ব্র্যান্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুর দিকে এটি নর্ডস্ট্রমের মতো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বিক্রি হলেও দ্রুতই তারা তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তন আনে। সাধারণ খুচরা দোকানের বদলে তারা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মেডিকেল-এস্থেটিকস ক্লিনিকগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে। ফলে গ্রাহকরা সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো ভিডিও দেখে পণ্য কেনার পরিবর্তে সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এই পণ্যগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেন, যা ব্র্যান্ডটির গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ অ্যাফিলিয়েট এবং রেভিনিউ-শেয়ারিং প্রোগ্রাম চালু করে। এর ফলে রোগীরা যখন ভার্চুয়াল স্টোরের মাধ্যমে পুনরায় পণ্য কেনেন, তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা কমিশন পান। এছাড়া লেজার ট্রিটমেন্ট, কেমিক্যাল পিল এবং মাইক্রোনিডলিংয়ের মতো চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে এই ব্র্যান্ডের প্রোটোকলগুলো যুক্ত করা হয়, যা এটিকে চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলে। যদিও ল’রিয়াল-এর স্কিনসিউটিক্যালস বা অ্যাবি-র স্কিনমেডিকার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা একই কৌশল অবলম্বন করে, তবে জেডও স্কিন হেলথ তাদের নিজস্ব কিছু বিশেষত্ব ধরে রেখেছে।

ব্র্যান্ডটি তাদের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। বর্তমানে তাদের আসল পণ্যগুলো কেবল অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত প্রদানকারীদের মাধ্যমেই পাওয়া যায়। অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক। এই সীমাবদ্ধ বিতরণ ব্যবস্থা একদিকে যেমন এক্সক্লুসিভিটি তৈরি করে, অন্যদিকে প্রিমিয়াম মূল্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। নিউইয়র্কের প্লাস্টিক সার্জন ডক্টর জেফরি লিসিয়েকি জানান, রোগীদের মধ্যে এই ব্র্যান্ডের পরিচিতি অনেক আগে থেকেই প্রবল এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়ার আগেই রোগীরা এই ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিন বা অন্যান্য পণ্যের কথা জানতে চান।

গাইডপয়েন্ট কিউসাইটের ২০২৬ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মেডিকেল-এস্থেটিকস প্র্যাকটিসে জেডও স্কিন হেলথের প্রায় ৪০ শতাংশ গ্রাহক পুনরায় পণ্য কিনেছেন, যা পেশাদার গ্রেডের স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রিটেনশন রেট। ২০১৬ সালের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে চিকিৎসকদের দ্বারা বিতরণ করা এক নম্বর মেডিকেল স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। যদিও তারা ব্যক্তিগত কোম্পানি হওয়ায় বার্ষিক বিক্রির তথ্য প্রকাশ করে না, তবে জাপানের প্রাক্তন পরিবেশক কুটেরার (Cutera) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জাপানেই এই ব্র্যান্ড থেকে ৩৪ মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

২০২০ সালে যখন ব্ল্যাকস্টোন এই কোম্পানির অধিকাংশ শেয়ার কিনে নেয়, তখন তাদের সিনিয়র ম্যানেজিং ডিরেক্টর টড হিরশ একে দ্রুত বর্ধনশীল পেশাদার স্কিনকেয়ার বাজারের অন্যতম সফল ব্র্যান্ড হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার বা সেলিব্রিটিদের হাইপ না থাকলেও, চিকিৎসকদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, কঠোর ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল এবং উচ্চ গ্রাহক আনুগত্যের কারণেই ২ বিলিয়ন ডলারের এই আকাশচুম্বী মূল্যায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।