নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ নিয়ে বিরোধের জেরে এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সুয়াইর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বপন মিয়ার বসতঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুনঃস্থাপন করা হয়নি। এর ফলে ওই পরিবারটি চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় অক্টোবর মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের মোট ৩ হাজার ১০০ টাকা বিল পরিশোধ করার পর অক্টোবরে ৮৭০ টাকা বিল আসে। বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন মিটার রিডিং কাম মেসেঞ্জার (এমআরসি) রাশেদ মিয়া বিল পৌঁছে দিতে যান, তখন বিলের পরিমাণ নিয়ে স্বপন মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। আসমা আক্তারের ভাষ্যমতে, তিনি কেবল বিল বেশি আসার কারণ জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কোনো গালিগালাজ বা অশোভন আচরণ করেননি। তিনি আরও জানান, বাড়িতে মাত্র একটি ফ্রিজ, দুটি লাইট ও ফ্যান থাকায় বিল এত বেশি হওয়ার কথা নয়। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে গেছে বলে তিনি আক্ষেপ করেন।

অন্যদিকে, মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ হামিদুর রহমান জানান, এমআরসি রাশেদ মিয়া তাঁকে অবহিত করেছেন যে, বিল দেওয়ার সময় গ্রাহক তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। এমনকি উপমহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) হাত কেটে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ডিজিএম ইমদাদুল হকের নির্দেশে ওই দিন বিকেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ডিজিএম ইমদাদুল হক আরও জানান, মিটারে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি এবং কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা আইনসংগত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁদের আইনে এমন সুযোগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার নিশ্চয়তা পেলে সংযোগ দেওয়া হবে।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক শাহ আলম প্রথমে জানতেন না। তবে পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানান, কর্মীদের গালিগালাজের অভিযোগের কারণেই ডিজিএম এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও তিনি মনে করেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেয়ে গ্রাহককে বুঝিয়ে বলাটা বেশি সঠিক হতো। তিনি ইতিমধ্যে ডিজিএম-কে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তবে এমআরসি রাশেদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।