মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে দলের দুটি গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা সদরের জমজম টাওয়ার এলাকায় এ confrontation শুরু হয়। দুই পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের একটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী, অপর পক্ষের নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আবদুল্লাহর অনুসারী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মীর সরফত আলীর অনুসারীরা সকাল ১১টার দিকে জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে আনন্দমিছিল বের করার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। অপরদিকে শেখ আবদুল্লাহ ও হাফিজুল ইসলাম খানের অনুসারীরা বিকেল ৪টায় শ্রীনগর স্টেডিয়ামে কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। সকাল থেকেই সরফত আলীর সমর্থকরা জমজম টাওয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় হাফিজুল ইসলাম খানের কয়েকজন অনুসারী ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা হাতাহাতি ও লাঠিসোঁটা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের মতো ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষে শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তসহ উভয় পক্ষের ৮-১০ জন আহত হন। শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তামান্না বিনতে তাহসিন বলেন, বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মাথা ও শরীরে আঘাত নিয়ে চারজন চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে মাথায় আঘাতের কারণে সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। পুলিশের কোনো সদস্য আহত হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, পুলিশের কেউ আহত হননি।

মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরফত আলী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের সঙ্গে সিরাজদিখানের বাসিন্দা ও সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ এবং হাফিজুল ইসলামের পূর্ববিরোধ চলছে। গত সংসদ নির্বাচনে সরফত আলী এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও দল থেকে শেখ আবদুল্লাহকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকে এই দুই পক্ষের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। দলীয় যেকোনো কর্মসূচি তারা দুই ভাগে ভাগ করে পালন করে আসছিলেন।

মীর সরফত আলীর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তাঁর সমর্থক কাজী শাহেদ অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টার দিকে তাঁরা জমজম টাওয়ারের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হাফিজুল ইসলাম খানের ৩০-৩৫ জন অনুসারী লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে সুমনসহ ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত সুমনকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, সকাল থেকে তিনি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি জানতে পারেন, তাঁদের লোকজন বাজারে যাওয়ার সময় মীর সরফত আলীর অনুসারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। এতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি, বাজারের দোকানদার তুহিনসহ তাঁদের পক্ষের পাঁচ-ছয়জন আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা চালায়।