মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করার ফলে ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটি বর্তমানে শূন্য। এই শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে মো. দেলাওয়ার হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। রোববার ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, যিনি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬টি ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে দেলাওয়ার হোসেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭টি ভোট পেয়েছিলেন।

রোববারের এই সমাবেশটির সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অঞ্চল টিম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলার সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুর জেলার সাবেক আমির আনোয়ারুল ইসলাম এবং পঞ্চগড় জেলা আমির ইকবাল হোসেনসহ আরও অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল হালিম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দেশের সব নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যদি জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হয়, তবে ১১-দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী জয়ী হবেন। মাওলানা হালিম আরও দাবি করেন যে, পূর্ববর্তী নির্বাচনে মানুষ বিপুল উৎসাহের সাথে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলেও জালিয়াতির মাধ্যমে জামায়াতের বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল, যদিও দৃশ্যত নির্বাচনটি সুষ্ঠু মনে হয়েছিল।