বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন নিয়ে পরিকল্পনা করছিলেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দুই বন্ধু ফিরোজ আহমেদ ও মাহী পাটোয়ারী। তাদের মধ্যে একজনের ইতালি এবং অন্যজনের কাতারে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার আগে তারা ঘুরতে বেরিয়েছিলেন রাঙামাটির সাজেক এবং কক্সবাজারে। তবে সেই ভ্রমণই তাদের জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াল। গত মঙ্গলবার ভোরে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। ঘটনার পরদিন বুধবার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দুই বন্ধুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
নিহত মাহী পাটোয়ারী রহিমানগর বাজারসংলগ্ন সাহারপাড় গ্রামের মিজানুর রহমান পাটোয়ারীর ছেলে। অন্যদিকে ফিরোজ আহমেদ একই গ্রামের মনির হোসেনের সন্তান। শৈশব থেকেই তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছিলেন। দুই বন্ধুর একযোগে মৃত্যুর খবরে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফিরোজের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলযোগে সাজেক ও কক্সবাজার ঘুরতে রওনা হন। ভ্রমণ সেরে মঙ্গলবার ভোরবেলায় কক্সবাজার থেকে কচুয়ার দিকে যাত্রা করেন। পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন তারা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাহী পাটোয়ারী চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর দুই মাস পর ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় ফিরোজ আহমেদের ৩০ সেপ্টেম্বর কাতার যাওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল।
মাহীর বাবা মিজানুর রহমান পাটোয়ারী বেদনাভরে বলেন, ছোটবেলা থেকে তাঁর ছেলে ও ফিরোজ একসাথে মানুষ হয়েছে। অবশেষে তাদের মৃত্যুও একসঙ্গে হলো।



