টানা কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে সোনার দর কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও সমন্বয় করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার প্রভাবই মূলত প্রতিফলিত হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা। এর আগে গতকাল পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা। অর্থাৎ সব ধরনের সোনাতেই সমান হারে মূল্য হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে রুপার বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। তবে প্রথমে বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকবে, পরে নতুন হারে তা সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল। ওইদিন এক লাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে যায়। এরপর কিছুদিন ধরে দাম ওঠানামা করে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে আসে। মাঝে আবার বৃদ্ধি পেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সেই উচ্চতায় ফিরে যায়।
বিশ্ববাজারের চিত্র বলছে, গতকাল একদিনেই সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১৫৫ ডলার কমেছে, রুপা কমেছে ৩ ডলারের বেশি। গোল্ড প্রাইস ডটঅর্গের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোনার প্রতি আউন্সের দাম ৪ হাজার ৪৫৫ ডলার। গত মঙ্গলবার যখন শেষবার দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখন তা ছিল ৪ হাজার ৬২৫ ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা আউন্সপ্রতি ১৭০ ডলার সস্তা হয়েছে। সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সোনার দাম বাড়ে, কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর এখানে উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন কারণে কয়েকদিন দাম বেড়েছিল, তবে গতকাল আবার তা কমতে শুরু করেছে।




