পোল্যান্ডের সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্য এবং নোবেলজয়ী লেখকদের সৃজনশীল দর্শন সম্পর্কে বাংলাদেশের পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের অবহিত করতে ঢাকায় এক বিশেষ সাহিত্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'পোলিশ কালচার ইন বাংলাদেশ'-এর উদ্যোগে গত শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় 'পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী সাহিত্যিকেরা' (Literary Talk: Nobel Laureates of Poland) শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মূলত দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পিওত্র আন্তোনি শভিতালস্কি, যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পোলিশ ইনস্টিটিউট, নয়াদিল্লির পরিচালক মাউগোঝাতা ভেইসিস উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি এবং পোলিশ সাহিত্যের অনুবাদক অনন্ত উজ্জ্বল স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বিশ্বসাহিত্যে পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী লেখকদের গুরুত্ব এবং বাংলা ভাষায় এই ধরনের সাহিত্যের অনুবাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। মূল আলোচনা পর্বে পোল্যান্ডের পাঁচজন বিশিষ্ট নোবেলজয়ী সাহিত্যিককে নিয়ে পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। ১৯০৫ সালের নোবেলজয়ী হেনরিক সিয়েনকিয়েভিচ-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন মো. মহিন উদ্দিন মিজান। ১৯২৪ সালের নোবেলজয়ী ভ্লাদিস্লাভ রেইমন্ত-এর অবদান তুলে ধরেন তানজিদা ইসরাত জাহান ঋতু। ১৯৮০ সালের নোবেলজয়ী কবি চেস্লাভ মিউশ-এর সাহিত্যভাবনা নিয়ে কথা বলেন আসিফ রহমান সৈকত। ১৯৯৬ সালের নোবেলজয়ী ভিস্লাভা শিম্বোরস্কা-এর কবিতা ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন সৌমেন্দ্র গোস্বামী এবং ২০১৮ সালের নোবেলজয়ী ওলগা তাকারচুক-এর সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন উম্মে রুম্মান ঊষা।

আলোচকদের মতে, পোলিশ লেখকদের রচনায় ইতিহাস, জাতীয় পরিচয়, মানবিক মূল্যবোধ, ব্যক্তিসত্তা এবং সামাজিক বাস্তবতার গভীর প্রতিফলন দেখা যায়। পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তাঁদের সাহিত্যকর্মের অনুবাদ ও পাঠচর্চার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী মূল্যায়ন করেন বিশিষ্ট অভিনেতা, নাট্যকার ও অনুবাদক খায়রুল আলম সবুজ। পরবর্তী অংশে পোলিশ ইনস্টিটিউট, নয়াদিল্লির পরিচালক মাউগোঝাতা ভেইসিসের সঙ্গে একটি মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের সাহিত্যিক বিনিময়ের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। সবশেষে ঢাকায় পোল্যান্ডের অনারারি কনস্যুলেটের প্রতিনিধির ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের মধ্যে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও গতিশীল হবে।