লা লিগার ম্যাচে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ের নায়ক ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি নিজের ষষ্ঠ হ্যাটট্রিকটি সম্পন্ন করেছেন। তবে ম্যাচটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছিল জোসে মরিনিওর বার্নাব্যুতে প্রত্যাবর্তনের কারণে। ১৩ বছর বা ৪,৮৩৪ দিন পর তিনি রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে পৃথিবী অনেক বদলেছে, কিন্তু মরিনিওর আচরণ ও সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক একই রয়ে গেছে। বার্নাব্যুর গ্যালারি থেকে তিনি যেমন দুয়োধ্বনি শুনেছেন, তেমনি ৪-১ জয়ের পর করতালিও কুড়িয়েছেন।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মরিনিওর দলের জন্য মসৃণ ছিল না। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় রিয়াল মাদ্রিদ আক্রমণে তেমন ধার দেখাতে পারেনি। তবে বিরতির পাঁচ মিনিট আগে ফেদে ভালভের্দের পাস থেকে বক্সের ভেতর দিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে এমবাপ্পে। এর মাত্র চার মিনিট পর লুকা সুসিচের গোলে সমতায় ফেরে রিয়াল সোসিয়েদাদ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় স্বাগতিকরা।

৬০তম মিনিটে বেলিংহামের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। আট মিনিট পর বেলিংহামের আরেকটি পাস থেকে গোল করে রিয়ালের হয়ে ব্যবধান বাড়ান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৮০তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত পাস থেকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। সোসিয়েদাদের ডিফেন্ডারের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে ভিনি যে পাসটি দিয়েছিলেন, সেটি ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। এমবাপ্পের শেষ গোলটির চেয়েও সুন্দর ছিল সেই পাসটি, যা দেখে দর্শকরাও মুগ্ধ হয়েছেন।

ম্যাচের আগে বার্নাব্যুতে মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচ উপলক্ষে ছিল লাইট শোয়ের আয়োজন। সেখানে মরিনিওর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল। তবে মাঠে নেমে আক্রমণের ধার তৈরি করতে সময় লেগেছে রিয়ালের। প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে কিছুটা দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে মরিনিও ও ভিনিসিয়ুসকেও। এ নিয়ে মরিনিও অবশ্য বিশেষ মাথা ঘামাননি। তিনি বলেছেন, বার্নাব্যুকে তারা চেনেন, খেলোয়াড়েরাও জানেন যে একটু দুয়োধ্বনিতে কারও কোনো ক্ষতি হয় না।

এই জয়ে লা লিগায় নিজের ৫৮তম হোম ম্যাচে ৫০তম জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মরিনিও। এই পথে তার দল হোম মাঠে করেছে ২০২ গোল। তবে ম্যাচ শেষে এসব রেকর্ডের বদলে এমবাপ্পের প্রশংসাতেই মাতিয়েছেন মরিনিও। তিনি বলেছেন, 'এই ছেলেটি অবিশ্বাস্য। আমি দেখতে পাচ্ছি, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়তে সে ভীষণ আগ্রহী। কিলিয়ান যতই ভালো খেলুক না কেন, দলের কথা না বলাটাও আমার জন্য খুব কঠিন।'

এমবাপ্পের গোল সংখ্যা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মরিনিও জানান, ৬০, ৪০ বা ৫০—সেটা তিনি জানেন না। তবে ট্রফিসহ ৪০ গোল করলেই তিনি সন্তুষ্ট হবেন। তিনি আরও বলেন, 'সে দলের ভেতর দায়িত্ব নিচ্ছে, ছুটি থেকে দুই দিন আগেই ফিরে এসেছে। আজ তাকে ৯০ মিনিট মাঠে রেখেছি। আমার মনে হচ্ছিল সে চার গোল করে ফেলবে।' জয়ের পর সোসিয়েদাদের কোচ পেলেগ্রিনো মাতারাজ্জোর সঙ্গে হাত মেলাতেও দেখা গেছে তাকে।

লিগে টানা দ্বিতীয় জয়ের পর মরিনিও যদিও রেকর্ড নিয়ে কথা বলেননি, তবে তার দলের আক্রমণভাগ যে দুর্দান্ত ছন্দে আছে, সেটি স্পষ্ট বোঝা গেছে। এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস ও বেলিংহামের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।