বরিশাল নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পুরানপাড়া বটতলা ছোট মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের এক ভয়াবহ পরিণতিতে মো. কামরুল ইসলাম রাঢ়ী (৫২) নামের এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার সকালে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ নিহতের সৎ মামা আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, তার স্ত্রী খাদিজা বেগম এবং ছেলে মিরাজ হোসেনকে আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের কাউনিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম।

নিহত কামরুল ইসলাম ওই এলাকার হাওলাদার বাড়ির মালেক রাঢ়ীর পুত্র। তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, কামরুলের মা আনোয়ার হোসেনকে থাকার জন্য মাত্র দুই শতাংশ জমি দিয়েছিলেন। তবে আনোয়ার সেই জায়গার ছয় শতাংশ দখল করে নিয়েছিলেন। এই দখলদারিত্ব নিয়ে দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছিল এবং স্থানীয় সালিশেও কোনো সমাধান হয়নি।

শনিবার সকালে বিতর্কিত ওই জমিতে একটি প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন কামরুল। এসময় আনোয়ার এবং তাঁর দুই ছেলে কাজে বাধা প্রদান করেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আনোয়ার ও মিরাজ কামরুলকে মারধর করতে শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই আনোয়ারের অপর ছেলে সুরুজ পেছন থেকে বাটালি দিয়ে কামরুলকে কোপ দেন। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে আরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন সাবিনা। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে নিহতের স্ত্রী জানান, আদালত যদি সঠিক সময়ে বিচার করত, তবে আজ স্বামীকে হারাতে হতো না। তিনি অপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আনোয়ার হোসেনের টিন ও কাঠের তৈরি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। কাউনিয়া থানার এসআই হরষিত মণ্ডল জানান, ঘরটি পুড়ে গেলেও কারা এই অগ্নিসংযোগ করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আনোয়ারের এক নাতিই সম্ভবত আগুন দিয়ে পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।