রাশিয়ার পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকির মুখে দেশ ও নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশেষ উচ্ছেদ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে লিথুয়ানিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিনডুগাস সিনকেভিচিয়াস বিবিসি-র 'নিউজনাইট' অনুষ্ঠানে জানান, রুশ হুমকির কারণে লিথুয়ানিয়ার মানুষ প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে দেশটির আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনা এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, কোনো ধরনের আক্রমণ হলে লিথুয়ানিয়া আত্মসমর্পণ করবে না, বরং দৃঢ়ভাবে পাল্টা লড়াই করবে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা নেবে।

প্রধানমন্ত্রী সিনকেভিচিয়াস জানান, সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার কিছু অংশ জনসমক্ষে আলোচনা করা হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, জরুরি অবস্থায় যাতে শহরের প্রবীণ নাগরিকদের কোনো যানজটে না পড়তে হয় এবং সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়, তার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ন্যাটোর সদস্য লিথুয়ানিয়ার সাথে রাশিয়ার একখণ্ড ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদের স্থলসীমানা রয়েছে, যা দেশটির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানান তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য। তিনি মনে করেন, লিথুয়ানিয়া যেহেতু হুমকির খুব কাছাকাছি এবং সীমানার সাথে যুক্ত, তাই তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এই সতর্কবার্তার ঠিক এক সপ্তাহ আগে লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। যদিও ড্রোনের উৎস নিশ্চিত করা হয়নি, তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্তাস কাউনাস জানিয়েছেন, ড্রোনটি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের দিক থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং এই ঘটনার পর লিথুয়ানিয়া ও ইতালীয় বাহিনীর দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর আকাশসীমা রক্ষায় তাদের প্রস্তুতি আবারও প্রমাণিত হয়েছে এবং জোটের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষায় তারা একতাবদ্ধ। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর ইউরোপজুড়ে সামরিক ড্রোনের অনুপ্রবেশের ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে। গত মে মাসে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে ড্রোন সতর্কবার্তার পর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছিল, যার ফলে সাময়িক বিমান ও রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ বছর বাল্টিক অঞ্চলের অন্যান্য সদস্য দেশ এস্তোনিয়া ও লাটভিয়ার আকাশসীমাতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে, যা ন্যাটোর বিমানগুলো ভূপাতিত করে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তির কারণে এই ড্রোনগুলোর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে অন্য দেশে চলে যায়। ২০০৪ সালে লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়া ন্যাটোতে যোগ দেয়। ন্যাটোর আর্টিকেল ৫ অনুযায়ী, যেকোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সবাই মিলে তা মোকাবিলা করে।