ইমাম ও মোয়াজ্জেম ভাতা সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করার পথে সড়কে প্রাণ হারালেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার একটি মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেম। রোববার বেলা দেড়টার দিকে উপজ্জেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকায় পুরোনো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি মাছবাহী পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের দরগাপাড়া কালাপির শাহ জামে মসজিদের ইমাম মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮) এবং মোয়াজ্জেম জহির উদ্দিন (৫০)। জয়নাল আবেদীনের বাড়ি ইছাখালি ইউনিয়নের চরশরৎ বাংলা বাজার এলাকায়। তাঁর পিতার নাম মো. আবদুস সালাম। অপরদিকে মোয়াজ্জেম জহির উদ্দিন মিঠানালা ইউনিয়নের উকিল টোলা গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্র থেকে জানা গেছে, মিরসরাই আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের আমন্ত্রণে বারইয়ারহাট অভিমুখে যাচ্ছিলেন দুজন। জয়নাল আবেদীন নিজে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। চৌধুরীহাটে পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে ধেয়ে আসা একটি মাছবাহী পিকআপের সাথে মোটরসাইকেলটি মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাফায়াত হোসেন নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই উভয়ের মৃত্যু ঘটে। শারীরিক পরীক্ষায় দেখা যায়, দুজনের মস্তিষ্কে ভয়াবহ আঘাত লেগেছিল।

মঘাদিয়া ইউনিয়নের ওই মসজিদের কোষাধ্যক্ষ অহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, নিহত ইমাম মাত্র এক মাস পূর্বে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পক্ষান্তরে, জহির উদ্দিন ২০০১ সাল থেকে একই মসজিদে মোয়াজ্জেমের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ইমাম ও মোয়াজ্জেম ভাতা সম্পর্কিত একটি আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্যই দুজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বারইয়ারহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল হালিম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, মাছবাহী পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেম নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহদুটি হেফাজতে নেয়। দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপচালক গাড়ি নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁর গ্রেপ্তার ও গাড়ি আটকের জন্য অভিযান চলমান থাকার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য নুরুল আমিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইমাম ও মোয়াজ্জেম ভাতার আওতাভুক্তি সংক্রান্ত কার্যক্রমের অংশ হিসাবে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫ জনকে করে কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য রোববার দুপুরে ডাকা হয়েছিল। নিহত দুইজনও সেখানে যোগ দিতে আসছেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। ভবিষ্যতে নিহতদের পরিবারের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।