রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশার (৪৫) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রোববার গ্রেপ্তারকৃত আসামি মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিন শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই আদেশ দেন। লেদু হাসান আদাবর থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং দলীয়ভাবে তিনি বর্তমানে বহিষ্কৃত।
আদালতের এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে হাজির করিয়ে সাত দিনের জিজ্ঞা নাদের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু শুনানির এক পর্যায়ে মামলার বাদী নিজে উপস্থিত হয়ে একটি হলফনামা পেশ করেন এবং দাবি তোলেন যে আটক এই ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিযুক্ত নন। এই দাবির ভিত্তিতে বিচারক রিমান্ডের আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে আসামিকে কারাগারে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেন।
চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই হত্যা মামলায় এখন অবধি ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-২ এর সদস্যরা গত ২৮ জুলাই রাতে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে মনোয়ার হাসানকে ধৃত করে। এ মামলায় অন্য আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার আওতায় গৃহীত জবানবন্দি থেকে তথ্য পাওয়া গেছে যে, হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত করার সময় প্রধান অভিযুক্ত পারভেজের কাছে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র সরবার করেছিলেন এই লেদু হাসান।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ২৯ জুন আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবলের জাপান-ব্রাজিল ম্যাচ দেখাকে ঘিরে স্থানীয় আদাবর ইউনিট বিসনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার মজনু ও শহীদ গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ বাধে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টির মীমাংসার জন্য ১ জুলাই উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি, বরং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সেই উত্তাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন ঘটনাকালে উপস্থিত বিসিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার। কিন্তু এ সময় হামলাকারী পারভেজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে ও পাদ্দাম হোসেনকে একাধিক আঘাত করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় উভয়কে প্রাথমিকভাবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আবুল বাশারের অবস্থা সংঘাতাবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আহত সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনার তিন দিন পর নিহতের স্ত্রী স্মৃতি আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মূলত ব্রাজিলের দলের জয়ের উদ্যাপন উপলক্ষে বাঁশি বাজানোর মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত। বিষয়টির মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থতার জেরে ওই দিন রাতে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা একদল হামলাকারী অপ্রত্যাশিতভাবে আবুল বাশার ও সাদ্দমের ওপর আক্রমণ চালায়, যার ফলশ্রুতিতে আবুল বাশার প্রাণ হারান এবং তার সহযোগী গুরুতরভাবে আহত হন।



