ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে এক ‘সমকামী কর্মকাণ্ড’ তদন্তকে ঘিরে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রোববার বিকেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে। তারা দাবি করছে, এই ঘটনায় তাদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত থেকে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলাকালে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রথমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা ধীরে ধীরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক (শান্ত) প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রশিবির সমকামিতাকে প্রমোট করার জন্য এজিএসকে রক্ষা করতে চাইছে এবং এ উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে মিথ্যাচার করছে। তাঁর দাবি, আগের দিন সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে, যাতে ওই সময়ে এজিএস সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিনা তা প্রমাণ করা না যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিবির নিজেদের পক্ষে সমর্থন তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।
মোছাদ্দিক আল হক আরও বলেন, একপর্যায়ে প্রভোস্ট অফিসে তারা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। বাইরে থাকা অবস্থায় প্রথমে হামলার শিকার হন তারা এবং পরে ভেতরে প্রবেশ করলে আবারও হামলার মুখে পড়েন। এতে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় হলের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে তদন্তে অংশ নিতে যান তারা। তদন্তে হল সংসদের এজিএস ও তাঁর রুমমেটকে ডাকা হয়েছিল। তদন্ত শুরু হওয়ার পরপরই ছাত্রদলের দুই সদস্য বৈঠক চলাকালে কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি দেখতে তিনি প্রভোস্টের কার্যালয়ে যান, যেখানে উপস্থিত হাউস টিউটররা সবাইকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
তৌকির হাসান আরও বলেন, এরপর ছাত্রদলের সদস্যরা প্রভোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান নেন এবং তারা দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করেন। এ সময় ছাত্রদল অভিযোগ তোলে, ছাত্রশিবিরের এক সদস্য তাদের ছবি তুলেছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তারা সবাই প্রভোস্টের কক্ষে আশ্রয় নেন। সেখানে কী ঘটছে তা ধারণ করার জন্য আবার ভিডিও করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করেও ছাত্রদলের সদস্যরা আবার হামলা চালান। ঘটনাস্থলে পাঁচজন হাউস টিউটর উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল—উভয় পক্ষই দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন প্রথম আলোকে বলেন, শহীদুল্লাহ হলে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। হল প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি জানালে সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ‘আমরা তো পুলিশ নই, তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে আমার জানা আছে,’ বলেন তিনি। হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে এখনো তিনি নিশ্চিত নন।



