পাসপোর্ট নবায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষারত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যেসব আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে, তা পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে এ সংক্রান্ত আদেশের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। রোববার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারির পাশাপাশি এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ প্রদান করে।

আদালতের জারি করা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, নতুন পাসপোর্ট ও নবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি বলে ঘোষণা করা হবে না এবং আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না। চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসী কল্যাণসচিব, আইনসচিব এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, 'প্রবাসীরা পাসপোর্ট নিয়ে মহাযন্ত্রণায়' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন গত ৯ জুলাই একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনটিকে সূত্র ধরে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-র পক্ষে তিনজন আইনজীবী রিটটি দায়ের করেন। রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, যাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল। অপরপক্ষে, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার।

আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কীভাবে নির্দেশনা কার্যকর করা হবে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। এছাড়া, একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর কাছে যেসব নতুন বা নবায়নের আবেদন জমা পড়ে, তা দ্রুত দেশের পাসপোর্ট অফিসে প্রেরণ নিশ্চিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ২১ দিনের মধ্যে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এই বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

আইনজীবী মোরসেদ গণমাধ্যমকে ব্যাখ্যা করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কিন্তু পাসপোর্ট প্রদান ও নবায়নের মতো মৌলিক সেবাটি দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ায় প্রবাসীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। এই জটিলতার দরুন অনেককে তাদের কর্মস্থল হারাতে হয়, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।