বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রতিটি ম্যাচের জন্য হোম ও অ্যাওয়ে জার্সি নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই প্রতিটি দলকে তাদের হোম ও অ্যাওয়ে কিটের সম্পূর্ণ সেট জমা দিতে হয় ফিফার কাছে। হোম কিট সাধারণত দেশের ঐতিহ্যবাহী রং বা নকশা ব্যবহার করে তৈরি হয়, যেখানে অ্যাওয়ে কিটে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ থাকে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একটি দলের জার্সি যদি গাঢ় রঙের হয়, তবে অন্যটি অবশ্যই হালকা বা সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের হতে হবে।
দুই দলের জার্সি, শর্টস ও মোজার রং যাতে কাছাকাছি না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরীক্ষা চালায় ফিফা। সাদা-কালো টেলিভিশন পর্দায়ও যাতে খেলা স্পষ্ট দেখা যায়, সে লক্ষ্যে 'স্পেক্ট্রোফটোমিটার' নামের একটি যন্ত্র দিয়ে জার্সির রঙের তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। বর্ণান্ধ দর্শকদের জন্যও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা সহজেই খেলোয়াড়দের আলাদা করতে পারেন।
গোলরক্ষক ও রেফারির জার্সিও আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়। মাঠের বাকি ২২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে যাতে তারা মিশে না যান, সেজন্য গোলরক্ষকদের জার্সি হয় ব্যতিক্রমী রঙের। সবশেষে সবাই রং বেছে নেওয়ার পর রেফারির জার্সি ঠিক করা হয়। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচের জন্য একটি দলকে 'হোম টিম' এবং অন্যটিকে 'অ্যাওয়ে টিম' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জার্সি নির্বাচনে অগ্রাধিকার পায় হোম টিম। যদি প্রতিপক্ষের হোম জার্সির রং মিলে যায়, তবে অ্যাওয়ে টিমকে অ্যাওয়ে জার্সি পরতে হয়।
জার্সি ও শর্টসের রং আলাদা হলেও মোজার রং এক হয়ে গেলে কোনো একটি দলকে জার্সি ও শর্টস মিশিয়ে পরতে বলা হয়, যেমনটি ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে দেখা গিয়েছিল। ফিফা জার্সিতে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান ও ছবি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি কোনো দেশের ঐতিহাসিক ঘটনা যদি অন্য দেশের বিপক্ষে যায়, সেটাও জার্সিতে ব্যবহার করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, হাইতির জার্সিতে তাদের স্বাধীনতার একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধের ছবি থাকায় সেটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
জার্সিতে খেলোয়াড়ের নাম, নম্বর ও লোগো যাতে স্পষ্ট থাকে, সে ব্যাপারে ফিফার কড়া নির্দেশনা রয়েছে। মরক্কো ও মিসরের জার্সির নাম ও ফন্ট বদলাতে হয়েছে এই নির্দেশনার কারণে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্সি নিয়ে নানা কাহিনি রয়েছে, যেমন আর্জেন্টিনা খেলেছে হলুদ জার্সিতে, ফ্রান্স সবুজে আর মেক্সিকো নীল-সাদায়। দুই দলের জার্সি মিলে যাওয়ায় কখনও কখনও ক্লাব থেকে ধার করা জার্সিতেও খেলতে হয়েছে দলগুলোকে। রঙিন টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার শুরুর পর থেকে জার্সি নির্বাচনের কড়াকড়ি আরও বেড়েছে।


