২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে অনেকে ছিলেন বিশ্ব ফুটবলে অপরিচিত। তবে এই আসরেই নিজেদের মেলে ধরে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কয়েকজন। প্রথম আলো স্পোর্টসের নির্বাচিত সাত খেলোয়াড়ের কাহিনী তুলে ধরা হলো।
মিসরের মোস্তাফা জিকো বিশ্বকাপের আগে অবসর কাটাচ্ছিলেন, হঠাৎ ফোন পেয়ে ডাক পড়ে জাতীয় দলে। ২৯ বছর বয়সে অভিষেক হয় প্রীতি ম্যাচে। বিশ্বকাপে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে তিনি এখন দেশের নায়ক। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাঁর একটি গোল ভিএআরে বাতিল হয়, যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বেশি। ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি জিকোর নামে নাম রাখা এই মিডফিল্ডার নিচের সারির ক্লাব ঘুরে, বাবাকে হারিয়ে সংসারের চাপ সামলে এখানে পৌঁছেছেন।
মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি একসময় যাঁর হাঁটা নিয়েই সংশয় ছিল, তিনি এখন মরক্কোর মুখ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭১ সেকেন্ডে গোল করে গড়েছেন দ্রুততম বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ষোলোর টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টি তাঁর পা থেকে এসেছে। ডাচ লিগের গত মৌসুমের সেরা এই খেলোয়াড়কে ইতিমধ্যে দলে ভিড়িয়েছে বায়ার্ন। চোটের কারণে শেষ আটে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে না পারাটাই হয়তো তাঁর একমাত্র আক্ষেপ।
আরেক মরোক্কান আইয়ুব বুয়াদ্দির বয়স মাত্র ১৮। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সবার নজর কেড়েছিলেন। বিশ্বকাপজুড়ে মরক্কোর মধ্যমাঠের প্রাণ হয়ে ছিলেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ আটে শেষ হয়েছে তাঁর স্বপ্নযাত্রা—যে ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন বয়সভিত্তিক ফুটবল। মরক্কোর হয়ে অভিষেক বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক মাস আগে। লিলের হয়ে ১৬ বছর বয়সে ফ্রেঞ্চ লিগে অভিষেক, ১৭ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।
কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া সম্ভবত এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার যা করেছেন, তা স্বপ্নের মতো। সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের ছোট্ট দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই চমক দিয়েছে, তাতে বড় ভূমিকা ভোজিনিয়ার। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়েকে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনাকেও প্রায় আটকে ফেলেছিলেন। না পারলেও দেশে জাতীয় বীর হয়ে গেছেন। বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী ছিল ১৫ হাজার, এখন সেটি প্রায় তিন কোটি ছুঁইছুঁই।
মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনোনিয়েস কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড খেলেন সৌদি লিগে। ২৯ বছর বয়সে মেক্সিকোর হয়ে কিছু করতে পারবেন কি না—এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। আজতেকায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী গোলটি তাঁর পা থেকে এসেছে। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে গোল, শেষ ৩২-এ ইকুয়েডরের বিপক্ষে এবং শেষ ১৬-তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও লক্ষ্যভেদ করেছেন। ৪ গোল করে এক বিশ্বকাপে মেক্সিকোর হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।
সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি জেনেভায় জন্ম, বাবা কঙ্গোর ও মা অ্যাঙ্গোলার। ২০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের জাতীয় দলে অভিষেক মাত্র গত বছর। বিশ্বকাপে বসনিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ১৯ মিনিটে জোড়া গোল করে সুইজারল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে জোড়া গোলের কীর্তি গড়েন। কানাডার বিপক্ষে করা জয়সূচক গোলটি দলকে গ্রুপ-শীর্ষে তুলেছে। তবে চোটের কারণে শেষ ৩২-এর পর আর খেলা হয়নি। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা তাঁকে নিতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম, নাইজেরিয়ান বাবা-মা, বেড়ে ওঠা লন্ডনে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেই ২ গোল করেন—১৯৩০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খেলোয়াড়ের বিশ্বকাপ ম্যাচে এটি প্রথম জোড়া গোলের কীর্তি। তবে গোল ছাপিয়ে বেশি আলোচিত হন লাল কার্ড দেখে। সেটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফিফা স্থগিত করে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ফেরাটা আর স্মরণীয় করতে পারেননি তিনি।



