ডিজনির লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘মোয়ানা’-র বক্স অফিস অভিযান শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। খবর সংস্থা ভ্যারাইটি ও ডেডলাইনের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ছবিটি তার প্রথম সপ্তাহান্তে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। ডোয়াইন ‘দ্য রক’ জনসন এবং ক্যাথরিন লাগাইয়া অভিনীত এই সংস্করণটি মুক্তি পেয়েছে ১০ বছর পর, ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যানিমেটেড আসল ছবিটির সাফল্যের পর। সেই মূল ছবিটি বিশ্বব্যাপী ৬৮৪.৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল মাত্র ১৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে। অস্কারের জন্য মনোনীত সেই ছবিটির সিক্যুয়েল ‘মোয়ানা ২’ ২০২৪ সালে মুক্তি পেয়ে ১.০৫৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে, যার মধ্যে উত্তর আমেরিকা থেকে এসেছে ৪৬০.৪ মিলিয়ন ডলার।

শুক্রবার ডেডলাইনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লাইভ-অ্যাকশন ‘মোয়ানা’র উদ্বোধনী দিনের আয় প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার হতে পারে, যার মধ্যে বৃহস্পতিবারের প্রিভিউ শো থেকে আসা ৪.৫ মিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত। এই প্রক্ষেপণটি ভ্যারাইটির পূর্বাভাসের চেয়েও কম, যেখানে ছবিটির উদ্বোধন ৬০ থেকে ৬৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। ২৫০ মিলিয়ন ডলার উত্পাদন বাজেটের এই ছবিটি উত্তর আমেরিকার ৩,৮৭৫টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত মুক্তি পেলেও দর্শক টানতে ব্যর্থ হচ্ছে। উল্লেখ্য, ‘মোয়ানা ২’ ২০২৪ সালে ৪,২০০টি থিয়েটার থেকে ১৩৯.৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল তার প্রথম সপ্তাহান্তে। সেটিও ছিল ১৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের একটি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র।

ডিজনির জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো পিক্সার স্টুডিওর ‘টয় স্টোরি ৫’-এর সাফল্য। ডেডলাইনের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে ছবিটি ১৮ মিলিয়ন ডলার সংযোজন করতে পারে, যার ফলে উত্তর আমেরিকায় এর মোট আয় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এদিকে ইউনিভার্সাল পিকচার্সের অ্যানিমেটেড কমেডি ‘মিনিয়ন্স অ্যান্ড মনস্টারস’ দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ৪৬ শতাংশ পতনের শিকার হয়ে ২০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পাঁচ দিনের সপ্তাহান্তে ৬২ মিলিয়ন ডলার আয় করা ছবিটি এখন পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় ১০৭.৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যা তার ৮০ মিলিয়ন ডলার উত্পাদন বাজেটের তুলনায় এখনও লাভজনক অবস্থানে রয়েছে।

সপ্তাহান্তের নতুন মুক্তি ‘ইভিল ডেড বার্ন’ ২০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এবং ৩,০০৪টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ডেডলাইনের মতে, এই হরর ছবিটি তার উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। আসল ‘ইভিল ডেড’ ফ্র্যাঞ্চাইজির স্যাম রাইমি এবং রব ট্যাপার্ট প্রযোজনা করেছেন এই ছবিটি। অন্যদিকে অ্যাঞ্জেল স্টুডিওজ ও ওয়ান্ডার প্রজেক্টের ‘ইয়ং ওয়াশিংটন’ দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ৬.৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে পঞ্চম স্থানে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ছবির উত্তর আমেরিকার মোট আয় এখন ৩২.৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যার বাজেট ছিল ২০ মিলিয়ন ডলার। বক্স অফিসের এই প্রাথমিক তথ্য সপ্তাহান্তজুড়ে হালনাগাদ করা হবে এবং চূড়ান্ত সংখ্যা সোমবার প্রকাশিত হবে।