বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী জিহান ওয়াজেদের শিল্পকর্ম এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম প্রধান ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্থান পেয়েছে। নিউইয়র্কের এই স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট উঁচু একটি দেয়ালচিত্র শোভা পাচ্ছে, যা এঁকেছেন জিহান। ফাইনালসহ বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এখানে।

জিহান ওয়াজেদের জন্ম ১৯৯১ সালে লিবিয়ার বেনগাজিতে। মাত্র তিন বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের জ্যামাইকায় বেড়ে ওঠা জিহানের শিল্পীসত্তা গড়ে উঠেছে শহরের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে। তবে তাঁর কাজের মধ্যে সবসময়ই ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের রং, প্রকৃতি ও স্মৃতি। ‘মেমোরি অব বাংলাদেশ’ নামের তার একটি ম্যুরাল জ্যাকসন হাইটসের একটি ভবনের দেয়ালে আছে, যেখানে বাংলাদেশের গ্রামীণ দৃশ্য ও বাংলা ভাষা ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।

চারুকলায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও, বারুখ কলেজ থেকে উপলব্ধিমূলক মনোবিজ্ঞানে স্নাতক করেন জিহান। মানুষের চোখ ও মস্তিষ্ক কীভাবে দৃশ্য গ্রহণ করে, সে বিষয়ে তার পড়াশোনা তার শিল্পচিন্তাকে প্রভাবিত করেছে। বর্তমানে ম্যানহাটানের থ্রি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ৭১তম তলায় তার স্টুডিও।

মেটলাইফ স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ২০২৫ সালের শুরুতে চুক্তি হয় জিহানের। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাজ করে তিনি দেয়ালচিত্রটি সম্পন্ন করেন। এতে ফুটে উঠেছে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়। জিহানের ভাষ্যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে নিজের শিল্পকর্ম স্থান পাওয়া তার জন্য বড় অর্জন এবং একজন প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে গর্বের।

নিউইয়র্কের আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জিহানের শিল্পকর্ম রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ওকুলাস, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪, আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম, কুইন্স হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে আছে তার ম্যুরাল। এছাড়া বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের পোশাক ও জুতার নকশাতেও কাজ করেছেন তিনি। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, কোরিওগ্রাফি ও নিউ মিডিয়া—সব মিলিয়ে তিনি একজন বহুমাত্রিক শিল্পী।

তিনি সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ অ্যাকশনের (সায়া) সঙ্গেও যুক্ত, যা নতুন প্রজন্মের অভিবাসী তরুণদের পথ দেখায়। জিহান বলেন, ছোটবেলা থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর বাংলাদেশে যান তিনি। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাড়ি হলেও সারা দেশ ঘুরেছেন। বাংলাদেশের প্রকৃতি, নদী, গ্রাম, মানুষের মুখ—সবকিছুই তার অবচেতন মনে গেঁথে আছে, যা তার ক্যানভাসে বারবার ফিরে আসে।