নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, টেলর সুইফট তাঁর বিয়ের নিরাপত্তা অনুমতি বাবদ শহরকে ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, এই ফি অনুষ্ঠান এবং তার প্রতিক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। অনুমতি চূড়ান্ত হয়েছিল বিয়ের কয়েকদিন আগে। রাস্তা বন্ধ বা অতিরিক্ত শহরসেবা প্রয়োজন হলে সাধারণত এই ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়, যার খরচ আয়োজকদের বহন করতে হয়।

গত শুক্রবার রাতে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসির বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। অ্যাডাম স্যান্ডলার বিয়ে পড়ান, আর স্টিভি নিকস সংগীত পরিবেশন করেন। অতিথি তালিকায় ছিলেন ব্র্যাডলি কুপার, জো ক্র্যাভিটজ, হিউ গ্র্যান্ট, ইথান হক, গিগি হাদিদ, কার্লি ক্লস, ক্রিস রক, স্টিভেন স্পিলবার্গ, ক্যামিলা কাবেলো, জেনি হান প্রমুখ। ক্রীড়া জগত থেকে উপস্থিত ছিলেন কেলসির কোচ অ্যান্ডি রিড, সহকর্মী খেলোয়াড় কারিম হান্ট, অবসরপ্রাপ্ত এনএফএল তারকা টম ব্র্যাডি, সিয়াটল সিহকসের কুপার কাপ, নিউ ইয়র্ক জায়ান্টসের জুজু স্মিথ-শুস্টার এবং ইএসপিএনের জো বাক ও স্টিফেন এ স্মিথ।

বিয়েতে কোনো ব্রাইডমেইড বা গ্রুমসমেন ছিল না। টেলরের ছোট ভাই অস্টিন সুইফট ‘ম্যান অব অনার’ এবং ট্রাভিসের বড় ভাই জেসন কেলসি ‘বেস্ট ম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নবদম্পতির পোশাক ছিল ক্রিশ্চিয়ান ডিওর হউট কউচার এবং জোনাথন অ্যান্ডারসনের ডিজাইন, জুতো ক্রিশ্চিয়ান লুবুতাঁর তৈরি। টেলর কার্টিয়ারের গয়না পরেছিলেন।

অনুষ্ঠানের আগে থেকে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল। অতিথিদের মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ ছিল, ফলে সামাজিক মাধ্যমে কোনো ছবি প্রকাশ পায়নি। বিয়ের ঘোষণার পরপরই অ্যারেনার বাইরের সাইনবোর্ডে ‘জাস্ট অ্যান্ড ম্যারিড’ লেখা ভেসে ওঠে। পরে ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’র উপস্থাপকরা নিশ্চিত করেন, স্টিভি নিকস গান গেয়েছেন এবং অনুষ্ঠানটি ছিল ‘অন্তরঙ্গ’। জর্জ স্টিফানোপোলোস বলেন, ‘ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের মতো বড় জায়গায় এমন ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ পরিবেশ কল্পনা করা কঠিন।’ রবিন রবার্টস জানান, সুইফট ও কেলসি নিজেরাই বিয়ের প্রতিজ্ঞা লিখেছিলেন।

মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি বড় অনুষ্ঠানের জন্য অভ্যস্ত এবং তারা এই মনোযোগকে স্বাগত জানায়। তবে তিনি নিজে বিয়েতে আমন্ত্রিত ছিলেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বাসায় বসে টেলর সুইফটের গান শুনব।’ বিয়ের দিন অ্যারেনার বাইরে ভক্তরা জড়ো হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে লরি পাওয়ারস নামে এক নারী বলেন, ‘সুইফটের সংগীত আমার জীবনের অনেক স্মৃতির সঙ্গী।’