চলমান গ্রীষ্মের অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ ইউরোপের বিশাল অঞ্চলকে পুড়িয়ে দিয়েছে, যার চিত্র এখন মহাকাশ থেকে তোলা উপগ্রহচিত্রে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। বিবিসি ভেরিফাইয়ের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে পশ্চিম ইউরোপের নদী, কৃষিজমি ও পার্বত্য এলাকায় খরার ব্যাপক প্রভাব দেখা গেছে।
তীব্র দাবদাহ ও বৃষ্টির অভাবে ইউরোপের বহু নদীর পানি প্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে, যার ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষি ও প্রতিদিনের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপগ্রহ থেকে পাঠানো চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানির মতো দেশগুলোর বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন শুকিয়ে ফাটল ধরেছে এবং সবুজের বদলে বাদামি রঙ ধারণ করেছে।
শুধু সমতল ভূমিই নয়, ইউরোপের উচ্চ পর্বতমালাতেও তাপপ্রবাহের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আল্পস ও পিরেনিস পর্বতমালার তুষারাবৃত শিখরগুলো গলে যাওয়ায় নিচের নদীগুলোতে পলি ও পাথরের স্তূপ জমে যাচ্ছে, যা পানিপ্রবাহকে আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশবিদরা বলছেন, এই পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনেরই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ, যা ইউরোপের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করেছে।
বিবিসি ভেরিফাই যে উপগ্রহচিত্রগুলো পরীক্ষা করেছে, সেগুলোতে স্পেনের কাতালোনিয়া অঞ্চলের জলাধারগুলোর অবস্থা ভয়াবহ—পানির স্তর এতটাই নেমে গেছে যে বহু জলাধারের তলদেশ প্রায় শুকিয়ে গেছে। ফ্রান্সের লোয়ার ও রোন নদীতেও পানির প্রবাহ গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে সেচের পানির অভাবে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে, এবং অনেক অঞ্চলে পানি ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করতে হয়েছে।
এই তীব্র খরা ও তাপপ্রবাহ ইউরোপের বনাঞ্চলেও আগুনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পর্তুগাল, গ্রিস এবং ইতালির মতো দেশগুলোতে দাবানলের ঘটনা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে গেছে, যার ফলে বিস্তীর্ণ বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। মহাকাশ থেকে তোলা ছবিতে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক স্থানে ধোঁয়ার লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে, যা দাবানলের তীব্রতা নির্দেশ করছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের চরম আবহাওয়া আগামী দিনগুলোতে আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রা গত কয়েক দশকের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ইউরোপের দেশগুলোকে খরা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




