চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক দুবাইপ্রবাসীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার সমিতিরহাট ইউনিয়নের সাদেক নগর গ্রামে সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী মুহাম্মদ রিদওয়ানের বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ছিল প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন, প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক। তাদের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র।

ঘটনার এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। দৈর্ঘ্য ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা বাড়ির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করছে। দুপুর ১২টার দিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাড়িটিতে ওই সময় শুধু দুই নারী সদস্য অবস্থান করছিলেন — প্রবাসীর মা রেনু আকতার ও তার স্ত্রী নীলা আক্তার।

হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির আশপাশের ঘরগুলো বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়। এরপর ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে ঘরের দরজা ও জানালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকেই তারা দুই নারীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। এর পর তারা বাড়িতে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর রিদওয়ানের স্ত্রী কৌশলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোরের আলো ফোটার আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছে বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। তারা দ্রুত লুটপাট শেষ করে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য, পাশের বাড়ির আরেক দুবাইপ্রবাসী জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই দুর্বৃত্তদের ভাড়া করে এনেছেন। রিদওয়ানের বোন রেশমি আকতার জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে ওই প্রতিবেশী পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তিনি আরও বলেন, আমরা থানায় এসে মামলা করেছি।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানিয়েছেন, হামলার শিকার পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি প্রতিবেশী পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ বিদ্যমান। সেই বিরোধের জেরেই এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ভোরেই ঘটনাস্থলে যায় এবং নারীদের উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে।

এদিকে, ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। প্রবাসী মুহাম্মদ রিদওয়ানের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ফটিকছড়ি থানার পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।