চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ডাকাতি করতে গিয়ে এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম রিগান আক্তার ওরফে মিম (২৬)। তিনি সাইফুল আলমের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। বুধবার সকালে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা ব্যাপারী বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার দিন স্বামী সাইফুল আলম ঢাকায় চাকরিস্থলে ছিলেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার ছোট ভাই জানায় যে দুজন মুখোশ ও লুঙ্গি পরা ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও টাকাপয়সা লুট করে। পরে তারা তার স্ত্রী রিগানকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সকালে বাড়িতে গিয়ে তিনি ঘর এলোমেলো দেখতে পান। তবে কী লুট হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নন তিনি। সাইফুলের ভাষ্য, কারও সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

সাইফুলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, রাত ১২টার দিকে তিনি সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে মুখোশ পরা দুজন তার সন্তানকে ছুরির মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। তার কানের দুল, আলমারি থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে তারা পাশের কক্ষে যায়। তখন তিনি সেখান থেকে বড় জা রিগানের চিৎকার শুনতে পান।

নিহত গৃহবধূর দাদাশ্বশুর নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে বাড়ির লোহার ফটকে তালা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ফটকের চাবি টেবিলের ওপর রেখেছিলেন তিনি। গভীর রাতে চিৎকার শুনে জেগে উঠে ফটক খুলতে গিয়ে দেখেন চাবি নেই। ফটকটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালা লাগানো ছিল না। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, নিহতের চিৎকারে অনেকে ছুটে আসেন। ডাকাতি সন্দেহে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। তারা বাড়ির পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান। ভেতরে গিয়ে রিগান আক্তারকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনার আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী ওই ঘরে কিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতকারীদের চিনে ফেলায় গৃহবধূকে হত্যা করা হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে কীভাবে তারা ওই ঘরে ঢুকল তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।