ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে এক দলিল প্রস্তুতকারককে খুনের ঘটনায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এই রায় প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে দুইজনকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে, এবং আরও দশজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট। ওইদিন সকালে ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী গ্রামের নিজ জমিতে যান আবু জাকারিয়া (মিন্টু)। তিনি ভালুকা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক হিসেবে কাজ করতেন। পূর্বশত্রুতার বশবর্তী হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে আক্রমণ করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জখম অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ রায় প্রদান করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদ খলিফা (৪৮) ও পলাতক মাসুদ মিয়া (৪১)। মাসুদ মিয়া মামলার এজাহারভুক্ত প্রথম আসামি এবং ফরিদ খলিফা পঞ্চম আসামি। তাদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। মাসুদ মিয়া পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই এই সাজা ঘোষণা করা হয়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন: আবদুল মতিন (৪৫) ও তার পিতা আবদুস ছাত্তার ওরফে ছন্দেন আলী (৬৮), মোশারফ হোসেন (৫৮), মোফাজ্জল হোসেন (৫৮) ও তার ভাই তোফাজ্জল হোসেন (৪৮), নজরুল মিয়া (৪৩), মোকলেছুর রহমান (৫৩), শাহজাহান আকন্দ (৪৮) ও তার ভাই মো. আতিকুল (৩৯) এবং পলাতক সিদ্দিক মিয়া (৬৩)। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের ছয় মাসের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মন্তব্য করেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণে এই হত্যাকাণ্ড যে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়েছে তা সন্দেহাতীত। পাবলিক প্রসিকিউটর আকরাম হোসেন বলেন, আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন এবং তারা দ্রুত এই রায় কার্যকর দেখতে চান। তিনি এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের স্বজনরা এই রায় মেনে নিতে পারেননি। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আতিকুলের বড় ভাই সিরাজুল ইসলামের মতে, জমি সংক্রান্ত ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন করা হলেও আদালত তা আমলে নেননি। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।