নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় বালু সরবরাহকারী এক ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক অপহরণের পর মারধর ও কানের লতি কামড়ে জখমের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়াসহ মোট এগারোজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি আরও পনেরো থেকে বিশজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ঠিকাদার সজিব মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় এই নালিশ দায়ের করেন।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে। জানা যায়, টি কে খান গ্রুপের একটি নির্মাণ প্রকল্পে বালু, ইট, রড ও সিমেন্ট সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন বাদী সজিব মিয়া। তিনি ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেনের (৪৮) কাছ থেকে একটি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভাড়া নেন। ওইদিন বিকেলে বাংলাদেশ জুট মিলের অভ্যন্তরে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ড্রেজার ও পাইপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মহিউদ্দিন চিশতিয়ার নির্দেশে কয়েকজন মোটরসাইকেলযোগে এসে উপস্থিত হন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পিস্তলের মুখো ঠেকিয়ে তাঁরা ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেনকে জোরপূর্বক একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীকে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আসামিরা। একপর্যায়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়া সাখাওয়াতের গলা চেপে ধরে তাঁর কানের লতিতে কামড় দিয়ে আঘাত করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বাড়ির বাইরে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা তাঁর কানে চারটি সেলাই প্রদান করেন।
মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বয়স ৪৪ বছর। এছাড়া অন্য দশ আসামিরা হলেন জামাল (৪১), জনি (৩২), আনোয়ার (৪৩), শফিক (৩৭), আমিনুল (৪০), সোহেল (৩৮), জুয়েল (৩৫), মানিক (৪০), রায়হান (৩৪) ও রিজন (৩৭)। তাঁরা সবাই মহিউদ্দিন চিশতিয়ার অনুসারী এবং ঘোড়াশাল দক্ষিণ চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন জানান, তিনি ওই প্রকল্পের টেন্ডারপ্রাপ্ত ঠিকাদার নন, বরং ভাড়াভিত্তিক কাজ করছিলেন। এই বিষয়টি উল্লেখ করলেও মহিউদ্দিন চিশতিয়া তাকে গলা টিপে ধরে কানে কামড় দেন এবং তার আগে তার কর্মীরা তাকে নির্মমভাবে প্রহার করে। তিনি অভিযুক্ত সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন জানান, ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও শারীরিকভাবে জখম করার ঘটনায় পুলিশ মামলা রেকর্ড করেছে। মামলায় মহিউদ্দিন চিশতিয়াসহ ১১ জনের নাম রয়েছে এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা পলাতক বলেও তিনি জানান। এখনো তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে তাদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


