প্রায় আড়াই বছর আগে যুক্তরাজ্যের ওয়েলস উপকূলে মরণাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বিরল সামুদ্রিক কচ্ছপটি এখন নিজের আবাসস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেম্পস রিডলি প্রজাতির এই কচ্ছপটির নাম রাখা হয়েছে রোসি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যাংলেসি সি-র রসনেইগ্র সৈকতে কচ্ছপটিকে খুঁজে পাওয়া যায়। তখন তার বয়স ছিল দুই বছরেরও কম এবং ওজন মাত্র এক কেজি। স্বাভাবিক আবাসস্থল মেক্সিকো উপসাগরের তুলনায় অত্যন্ত ঠান্ডা পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে প্রাণীটি দুর্বল ও প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল বলে জানা যায়।

মেগ নামের একটি কুকুর সৈকতে হাঁটার সময় কচ্ছপটিকে প্রথম দেখতে পায়। কীভাবে প্রায় ৫ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে কচ্ছপটি ওয়েলসে পৌঁছেছিল, তা নিয়ে রহস্য রয়ে গেছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রচণ্ড ঝড় বা শক্তিশালী বাতাসের কবলে পড়ে পথ হারিয়ে ঠান্ডা পানির স্রোতে ভেসে এসেছে রোসি। উদ্ধারের সময় প্রাণীটির শ্বাসপ্রশ্বাস ছাড়া আর কোনো সাড়া ছিল না।

অ্যাংলেসি সি চিড়িয়াখানার নিবিড় পরিচর্যায় রোসি এখন বেশ বড়সড় হয়ে উঠেছে। উদ্ধারের সময় এক কেজি ওজনের কচ্ছপটির বর্তমান ওজন ২১ কেজিতে পৌঁছেছে। আকারেও প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রজাতিটির একটি পূর্ণবয়স্ক কচ্ছপের স্বাভাবিক ওজন সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ কেজি হয়ে থাকে। চিড়িয়াখানার মালিক ফ্র্যাঙ্কি হোব্রো জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডার শিকার হওয়া কচ্ছপগুলো বিশেষজ্ঞদের সহায়তা ছাড়া খুব কমই বেঁচে থাকে। প্রথম এক থেকে দুই সপ্তাহ রোসি বাঁচবে কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত ছিলেন না তাঁরা।

চিড়িয়াখানায় থাকা অবস্থায় রোসি মূলত পানিতেই সময় কাটিয়েছে। কিন্তু দেশে ফেরার যাত্রায় জলজ প্রাণীটিকে দীর্ঘ সময় পানির বাইরে থাকতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোসিকে প্রথমে হেলিকপ্টারে করে অ্যাংলেসি সি থেকে লন্ডনে নেওয়া হবে। সেখান থেকে কার্গো বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে পাঠানো হবে। এরপর সাগরের উপযুক্ত পরিবেশে তাকে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।