ইসলামে যেকোনো ক্ষণেই আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা যায়, কিন্তু কিছু মহিমান্বিত সময়কে দোয়া কবুলের জন্য বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাদিসের ভাষ্যমতে, রাতের গভীরতা যখন শেষ তৃতীয়াংশে পৌঁছে, তখন মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে বান্দাদের আহ্বান করতে থাকেন, কে তার কাছে চাইবে আর সে তা দান করবে? তাই শেষ রাতের নীরবতা প্রার্থনার জন্য অত্যন্ত বরকতপূর্ণ।
প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান ও জামাত শুরুর ইকামতের মধ্যভাগের সময়টি প্রায়ই আমরা আড্ডা বা অন্যান্য কাজে অতিবাহিত করি। অথচ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, এই সময়ে যে প্রার্থনা করা হয়, তা ফেরত দেওয়া হয় না। একইভাবে নামাজের ভেতরে সেজদার অবস্থায় বান্দা তাঁর প্রতিপালকের সর্বাধিক নিকটবর্তী থাকে, ফলে এ অবস্থায় নিজের মনের সব অভাব ও আকুতি তুলে ধরতে বলা হয়েছে। ফরজ নামাজ শেষে সালাম ফিরানোর ঠিক আগের ভাগটিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
জুমার দিনের ব্যাপারে বলা হয়েছে, এ দিনে একটি অনির্দিষ্ট মুহূর্ত রয়েছে, যেখানে চাওয়া কোনো কিছুই বিফলে যায় না। আলেমগণ ধারণা করেন, এই সময়টি খুতবা ও নামাজের মধ্যে কিংবা আসরের পর থেকে মাগরিবের আগে হতে পারে। রোজাদার যখন সারাদিন উপবাসের পর ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে বিনীত হয়ে আল্লাহর শরণাপন্ন হয়, তখন তার আবেদনও ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
আকাশ থেকে রহমতের বর্ষণ শুরু হলে তা কেবল ভূমির শুষ্কতাই দূর করে না, বরং দোয়া কবুলেরও সিংহদ্বার উন্মুক্ত করে। তদ্রূপ জিলহজের ৯ তারিখ আরাফার দিন হল সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রার্থনার দিন। আর রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে নিহিত কদরের রাত তো হাজার মাসের চেয়ে মহিমান্বিত। মহানবী (সা.) আয়েশা (রা.)-কে এ রাতের জন্য ক্ষমার বিশেষ দোয়া শিখিয়ে দেন।
পরিশেষে, অসহায় অবস্থায় কোনো অত্যাচারিত বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি যখন একান্তভাবে ডাকে, তখন সে প্রার্থনা এবং আল্লাহর মধ্যে কোনো অন্তরাল থাকে না বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়াও বিপদে পড়ে অন্তর থেকে কেউ সাহায্য চাইলে আল্লাহ তা দূর করেন বলে পবিত্র কোরআনের বাণী। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, এই দশটি সময়ের পক্ষপাতি জানা থাকলে আত্মিক জীবন সমৃদ্ধ হয়, তবে আল্লাহ সব সময়ের জন্য বান্দার জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন।




