পিটার ভ্যান নর্ডেন, যিনি ‘পুলিশ অ্যাকাডেমি ২: দেয়ার ফার্স্ট অ্যাসাইনমেন্ট’ ও ‘দ্য নেকেড গান ২½: দ্য স্মেল অফ ফিয়ার’ সিনেমায় তার অভিনয়ের জন্য ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হসপিসে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

১৯৮৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পুলিশ অ্যাকাডেমি’-র দ্বিতীয় কিস্তিতে অফিসার ভিনি শটুলম্যান চরিত্রে স্টিভ গুটেনবার্গের বিপরীতে অভিনয় করেন ভ্যান নর্ডেন। পরবর্তী সময়ে লেসলি নিলসনের ডিটেকটিভ প্যারোডি ‘দ্য নেকেড গান ২½: দ্য স্মেল অফ ফিয়ার’-এ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের চিফ অফ স্টাফ জন সুনুনুর ভূমিকায় দেখা যায় তাকে।

শুধু কমেডিই নয়, নাট্যধর্মী চরিত্রে অভিনয়েও সমান পারদর্শী ছিলেন এই অভিনেতা। ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দি অ্যাকিউজড’ সিনেমায় আইনজীবী পলসেনের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি, যা জোডি ফস্টারকে তার প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর অস্কার এনে দেয়।

স্টিফেন কিংয়ের কাল্ট উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য স্ট্যান্ড’ টিভি মিনিসিরিজের প্রথম সংস্করণে রালফ ব্রেন্টনার চরিত্রে অভিনয় করেন ভ্যান নর্ডেন। সেখানে স্টু রেডম্যান (গ্যারি সিনিস), ল্যারি আন্ডারউড (অ্যাডাম স্টর্ক) ও গ্লেন বেটম্যান (রে ওয়ালস্টন)-এর সাথে তিনি পশ্চিম দিকে যাত্রা করেন কর্তৃত্ববাদী নেতা র্যান্ডাল ফ্ল্যাগের (জেমি শেরিডান) মোকাবিলায় — যিনি একটি প্রাণঘাতী ইনফ্লুয়েঞ্জা স্ট্রেনের কারণে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের পর বিপজ্জনক অনুসারী গড়ে তোলেন।

নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১৯৬০ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা পিটার এডওয়ার্ড ভ্যান নর্ডেনের মঞ্চ ও পর্দা উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘ ক্যারিয়ার ছিল। ট্রোমা এন্টারটেইনমেন্টের কমেডি ‘স্কুইজ প্লে’-তে একটি ছোট চরিত্র দিয়ে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে।

পরে উইলেম ডেফো ও জাজ রাইনহোল্ডের কমেডি ‘রোডহাউস ৬৬’, টম সেলেকের জেল নাটক ‘অ্যান ইনোসেন্ট ম্যান’ এবং টিভি মুভি ‘ক্যাজুয়ালটিজ অফ লাভ: দ্য লং আইল্যান্ড ললিটা স্টোরি’-সহ আরও বেশ কিছু সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।

টেলিভিশনেও অসংখ্য অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভ্যান নর্ডেন। ‘চিয়ারস’, ‘টি.জে. হুকার’, ‘সেন্ট এলসহোয়্যার’, ‘বেনসন’, ‘ম্যাটলক’, ‘সিলভার স্পুনস’, ‘হার্ডক্যাসল অ্যান্ড ম্যাককরমিক’, ‘এল.এ. ল’, ‘উইংস’, ‘টেলস ফ্রম দ্য ক্রিপ্ট’, ‘মার্ডার, শি রোট’, ‘ন্যাশ ব্রিজেস’, ‘ফ্যামিলি ম্যাটারস’, ‘ইআর’ ও ‘৯-১-১’-এর মতো জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিকে তাকে দেখা গেছে।

মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে অভিনেতার স্ত্রী ওয়েন্ডি টিএমজেডকে জানান, স্বামী দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার হসপিসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর পুত্র রবার্ট ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে বলেন, “পিটার গত রাতে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁর স্ত্রী ওয়েন্ডি পাশে ছিলেন। তিনি একজন অসাধারণ পিতা, স্বামী, বন্ধু এবং নাট্য সম্প্রদায়ের অত্যন্ত সম্মানিত সদস্য ছিলেন। তাকে সবার খুব মিস করবে।”