রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে ফিরে এসেছেন জোসে মরিনিও। দলে নতুন খেলোয়াড় আনার পাশাপাশি বিশ্বকাপের শেষ দিকে খেলা রিয়ালের তারকাদের প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পে কবে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তবে মরিনিওর বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে মজার দিকটি হলো, ক্লাব ফুটবলে তাঁর আগের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা আর নেই। দীর্ঘ এক দশক পর এমন একটি ক্লাবে ফিরলেন যেখানে শীর্ষ ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু তাঁর সমমাত্রার কোচদের সংখ্যা এখন হাতে গোনা।
আন্তোনিও কন্তে নাপোলি ছেড়ে দিয়ে বেকার। ইতালির দায়িত্ব নেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও মরিনিওর সঙ্গে ডাগআউটে তাঁর দ্বৈরথ দেখা যাচ্ছে না। পেপ গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন। ইতালির কোচ হতে পারেন আন্দ্রেয়া পিরলো। জার্মানির দায়িত্ব নেওয়া ইয়ুর্গেন ক্লপ এখন মরিনিওকে দূর থেকে খোঁচা মারতে হবে। রিয়ালের সাবেক কোচ আলভারো আরবেলোয়া ও জাবি আলোনসেও ফুলহাম ও চেলসির মতো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় না থাকা ক্লাবে আছেন।
সবচেয়ে বড় নাম কার্লো আনচেলত্তি ও জিনেদিন জিদান। আনচেলত্তি ইতিমধ্যে ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েছেন, আর জিদান ফ্রান্সের কোচ হওয়ার পথে। চলতি সপ্তাহেই ফ্রান্সের নতুন কোচ হিসেবে জিদানের নাম ঘোষণা হতে পারে। এর ফলে গত সাত বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী সাতজন কোচের মধ্যে চারজনই জাতীয় দলে চলে গেছেন—আনচেলত্তি, ক্লপ, টমাস টুখেল (ইংল্যান্ড) ও জিদান। ক্লাব ফুটবলে এই পটপরিবর্তনে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ কোচদের শূন্যতা স্পষ্ট।
২৬ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ও তিনটি ভিন্ন দেশে লিগ জেতা মরিনিও এখন ক্লাব ফুটবলে নিজের মাপের কোচদের তালিকায় একা। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর দিকে তাকালে তিনি দেখবেন আনচেলত্তির ছেলে দাভিদ আনচেলত্তি, যিনি রিয়াল বেতিসের কোচ। ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি ও ডিয়েগো সিমিওনেও রয়েছেন, কিন্তু সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো তাঁদের সঙ্গে খোঁচাখুঁচির সুযোগ নেই।
২০২৬-২৭ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর দিকেও নজর দিলে একই চিত্র। লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি—সব দলই গত আট মাসের মধ্যে নতুন কোচ পেয়েছে। এনজো মারেস্কা সিটিতে, মাইকেল ক্যারিক ইউনাইটেডে এবং ইরাওলা লিভারপুলে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এদের ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুবই কম। ইতালিয়ান সিরি আ থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ওঠা চারটি দলের মধ্যে শুধু কোমোর কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসই ধারাবাহিকভাবে টিকে আছেন—এটি তাঁর তৃতীয় মৌসুম। নাপোলি, রোমা ও ইন্টার মিলানের কোচদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্লাবে এক বছর বা তার কম সময় ধরে আছেন।
লিওনেল স্কালোনিওর সঙ্গে আর্জেন্টিনার চুক্তিও আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে, আর তিনি চুক্তি নবায়নে আগ্রহী নন। সব মিলিয়ে ক্লাব ফুটবলে মরিনিওর আগামী দিনগুলোতে নিঃসঙ্গতা আরও বাড়তে পারে। রসিকতাপূর্ণ খোঁচাখুঁচি করার মতো কেউ নেই বললেই চলে। আন্তর্জাতিক ফুটবল যে তাঁর মাপের গ্রেটদের ক্লাব ফুটবল থেকে নিয়ে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।




