জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক এই আয়োজনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ শিশু শাহরিয়ার খান আনাসের মা। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা ও জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ সভাপতিত্ব করেন এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব শাহীন মিয়া ও মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ।
সভায় বক্তৃতাকালে শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের মা লিপি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সাজিদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে সে শহীদ হয়। এর পরের বছর ২০২৫ সালের আগস্টে মারা যায় সাজিদের বাবা। বর্তমানে তিনি ও তার মেয়ে বেঁচে থাকলেও এটাকে সত্যিকারের জীবন বলে মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘আমি দুনিয়ায় জিন্দা লাশের মতো জীবন কাটাচ্ছি। প্রতিদিন রাতে আমার সাজিদের একটা গেঞ্জি বুকে নিয়ে ঘুমাই। এখনো সেই গেঞ্জিটাই আমার একমাত্র সান্ত্বনা।’
লিপি বেগম আরও বলেন, ‘যদি বেঁচে থাকত, তাহলে আজকে এখানে আমার সাজিদই বসে থাকত; আমি আসতাম না। আমি আজ এখানে এসেছি একজন শহীদের মা হিসেবে।’ তার কথাগুলো বলার সময় উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে আসে। শহীদ সাজিদের এই আবেগঘন বক্তব্য অনুষ্ঠানস্থলে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করে।




