শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় বুধবার রাতে নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মুলনা ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় গতকাল রাতে ২০ থেকে ২৫টি ককটেল বিস্ফোরিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রতিপক্ষের অন্তত ৩০টি বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এসব বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের শিকার হয়েছে এবং গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ জানান, গ্রামে পুনরায় হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি ঘরবাড়ি ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি। স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে তারা দাবি করেন।
এর মাত্র দুই দিন আগে, গত সোমবার সন্ধ্যায় একই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ককটেলের আঘাতে রেজাউল শিকদারের পক্ষের সমর্থক মান্নান সরদার (৭০) নিহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের অভিযোগও ওঠে। নিহত মান্নান সরদারের ছেলে আনোয়ার হোসেন গতকাল জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁকে প্রধান আসামি করে মোট ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তীব্র বিরোধ বিদ্যমান। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় সোমবার দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মান্নান সরদার নিহত হওয়ার পর তমিজ খাঁ ও তাঁর সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে চলে যান।
এরপর বুধবার রাতে মান্নান সরদারের স্বজন এবং রেজাউল শিকদারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে তমিজ খাঁ ও তাঁর অনুসারীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা বাড়িঘর থেকে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তমিজ খাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বসতবাড়ি ভাঙচুর করেছেন। ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নেওয়া হয়েছে। তাদের ও সমর্থকদের বাড়ি থেকে গরু, ছাগলসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতা রেজাউল শিকদার এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তমিজ খাঁ এলাকাবাসীর ওপর নির্যাতন ও চাঁদাবাজি করেছেন। তাঁর লোকজনের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং ওই হামলায় তাঁর এক আত্মীয় নিহত হয়েছেন। এখন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা সাজানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ওসি সালেহ আহম্মেদ আরও জানান, মান্নান সরদার নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার রাতের হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ওই গ্রাম ঘিরে রেখেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




