ক্রীড়া সরঞ্জাম ও পোশাকের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান নাইকির পুনরুদ্ধারের যাত্রা এখনো মসৃণ নয়। এই সপ্তাহে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও সামগ্রিক চিত্র জটিল। উত্তর আমেরিকার বাজারে রাজস্ব ৩ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে জুতো খাতের উন্নতি এবং পূর্বে বিচ্ছিন্ন পাইকারি অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার মূল ভূমিকা রেখেছে। তবে চীনের বাজারে পরিস্থিতি ভিন্ন; সেখানে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, কারণ স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহ বেড়েছে। এছাড়া নাইকির অধীনস্থ কনভার্স ব্র্যান্ডের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে, যা সামগ্রিক আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এই চ্যালেঞ্জের পেছনে শুধু বাজার পরিস্থিতি দায়ী নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কয়েকটি পদক্ষেপও পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। গত এপ্রিলে বোস্টন ম্যারাথন উপলক্ষে নাইকির একটি বিজ্ঞাপন ধীরগতির দৌড়বিদদের উপহাস করে বলে ব্যাপক সমালোচিত হয়। ব্যবসার বিশাল অংশ এই সাধারণ দৌড়বিদদের ওপর নির্ভরশীল, তাই তাদের অপমান করে বসা ছিল গুরুতর ভুল। বিশ্বকাপের সময় মার্কিন দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিষ্ঠানটি আরেকটি বিপত্তির সম্মুখীন হয়, যা ওয়াল স্ট্রিটে নাইকির কার্যক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে লিঙ্গভিত্তিক বিক্রয় বিভাজনের মতো তথ্য প্রকাশনা হঠাৎ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে। বিএনপি পারিবাস ইক্যুইটি রিসার্চের বিশ্লেষক লরেন্ট ভাসিলেস্কু এক নোটে উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক কারণ নারী ক্রেতাদের লক্ষ্য করে নাইকির দীর্ঘমেয়াদী কৌশল ছিল।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর নাইকির শেয়ার দর আরও কমেছে। বর্তমানে এটি পাঁচ বছর আগের সর্বোচ্চ দর থেকে ৭৫ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে ইলিয়ট হিল প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শেয়ার দর প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গ্লোবালডাটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিল সন্ডার্স মনে করেন, নাইকির সমস্যা আগের ধারণার চেয়ে গভীরে প্রোথিত এবং পুনরুদ্ধার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নেবে। হিল নিজেও গত বসন্তে স্বীকার করেছিলেন যে উন্নতির গতিতে তিনি হতাশ। তিনি কর্মীদের বলেছিলেন, ‘আমি ক্লান্ত, এবং আমি জানি আপনারা ও ক্লান্ত—ব্যবসা ঠিক করার বিষয়ে কথা বলে। আমি অনুপ্রেরণা ও প্রবৃদ্ধির দিকে যেতে চাই’।

হিল তার পূর্বসূরি জন ডোনাহোর থেকে ভিন্ন পথে হাঁটছেন। তিনি ক্রীড়া পারফরম্যান্স পণ্যের ওপর জোর দিচ্ছেন, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলের পরিবর্তে। ফুট লকারের মতো বড় পাইকারি অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নতুন উদ্ভাবনী পণ্য তৈরিতেও মনোযোগ দিচ্ছেন। চীনের বাজারে পণ্য স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হিল বলেন, ‘আমাদের ধারাবাহিকতা ও প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকর সম্পাদন দেখাতে হবে’। নাইকির বার্ষিক রাজস্ব ৪৬ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতিদ্বন্দ্বী লুলুলেমন, আন্ডার আর্মার ও অন-এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। তবে চীনে অমার্জিত পণ্যের বিপুল মজুতের কারণে মুনাফা মার্জিন কিছুদিন চাপে থাকবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হিলের বড় পুনরুদ্ধার কৌশল কার্যকর হতে সময় লাগবে; আপাতত নাইকি প্রমাণ করতে পারে যে তারা নিজেদের পথ থেকে সরে দাঁড়াতে সক্ষম।