জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইনলামবৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) স্পষ্ট ভাষায় বিএনপিকে সতর্ক করে বলেছেন, বিরোধী দলরাজনীতি করার সুযোগ কেউ যেন বলপ্রয়োগে রুদ্ধ করতে না পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশে বাধা দেওয়া বা কথার উত্তরে হামলা-মামলার মতো বিষয় আর সহ্য করা হবে না। নাহিদিন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘ভিন্নমত দমন করতে অতীতে যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহৃত হয়েছে, সেটিই ছিল সমালোচনা বন্ধের ফন্দি। এসব হলো পুরনো সরকারের কলাকৌশল। আপনারা আপনাদের বক্তব্য যদি আমাদের অপছন্দ হয়, তাহলে পাল্টা সমাবেশ করে যুক্তি দিন—এটাই তো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি।’ তাঁর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকার যেসব চর্চা করত, সেগুলো যেন কেউ পুনরাবৃত্তি না করে।

শাবিপ্রবিতে প্রবেশের সময় বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনী দেখে নাহিদিন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘মনে হলো এখানে যেন বড় কোনো সংঘর্ষ আসন্ন। পুলিশ এবং বিজিবির এই আয়োজন বন্ধ করতে হবে। যারা সন্ত্রাসী কাজ করে, তাদের যথাযথ বিচারের আওতায় আনুন; তাহলে আর এত প্রহরার দরকার পড়বে না।’ সম্প্রতি হবিগঞ্জে সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, যার ওপর আঘাত এসেছে তার বক্তব্যে কী ‘আপত্তি ছিল’ তা প্রমাণ করতে হবে, নয়তো দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বক্তা ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি কৌতুক-রসিকতার সুরে জানান, তাঁকে ‘কড়াভাবে’ ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শাবিপ্রবির নিয়মিত নির্বাচন না হওয়া নিয়ে তিনি ছাত্রনেতাদের প্রতীকীভাবে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে রাতারাতি এক ‘খলনায়ক’ এসে সব বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন বাতিলের পিছনে কারা আছে, তা আপনাদের বোধগম্য।’ তিনি পুনশ্চ ওই ঘটনার বিচার যাতে না থামে, সে আহ্বান জানান।

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল দুই লক্ষ্য হিসেবে বিচার ও সংস্কারকে সামনে রেখে নাহিদিন ইসলাম বলেন, ‘অতীত ফ্যাসিস্ট চক্রকে বিচারের আওতায় আনা জরুরি। অপর দিকে, এমন সংস্কার করতে হবে যাতে আগামী দিনে ক্ষমতায় এসে কেউ আবার স্বৈরশাসনে ফিরতে না পারে। তা না হলে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন বা ভবিষ্যতে যারা আসবেন, সবাই কাঠামোর এই ফাঁককে কাজে লাগিয়ে নতুন ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পারেন।’

তিনি আরও উচ্চারণ করেন, ‘শহীদ ও জনগণের কাছে অঙ্গীকার, আমরা পুরনো স্বৈরাচারী বা সাম্রাজ্যবাদী কোনো চক্রকে আর রাজনীতির মাঠে ফিরতে দেব না। আর নতুন কাউকেও স্বৈরতন্ত্রের পথে যেতে দেওয়া হবে না। ’ এ সময় তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন, যতই বাধা আসুক, আন্দোলনকারীরা সবকিছু জয় করবে।

উল্লিখিত সভার আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট, সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক রাশিদ আবরার। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশক্তির যুগ্ম সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার, প্রাক্তন সমন্বয়ক আবু সালেহ নাসিম, শাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন সহ-সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন, ইনকলাব মঞ্চের হাফিজুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের আজাদ শিকদারসহ আরও কয়েকজন নেতৃবন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব রিয়াজ হোসেন।