জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রকম অনিয়ম, সন্ত্রাসী তৎপরতা বা লাঠিয়াল বাহিনীর ব্যবহার প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাট বাজারে এনসিপির কানাইঘাট উপজেলা শাখা আয়োজিত 'জুলাই পদযাত্রা' উপলক্ষে এক পথসভায় বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাধারণ মানুষের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম আহ্বান জানান, তারা যেন আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শাপলা প্রতীক ও এনসিপির পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি দেশে নব্য ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠলে তা প্রতিরোধ করার অঙ্গীকার করেন। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। গ্যাস, শাকসবজি ও বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মাত্র দুই দিন আগে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি সরকারের এই ব্যর্থতার সমালোচনা করতে পারছে না। তিনি অভিযোগ করেন, সমালোচনা করলেই চোখ উপড়ে ফেলা হচ্ছে এবং বালুবোঝাই ট্রাক দিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হচ্ছে। নাহিদ ইসলাম এটিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ এর একটি নমুনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

পথসভাটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। এতে বক্তব্য রাখেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ ও মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা। বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দমন-পীড়নের মাধ্যমে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, যারা এত বছর পাট ও ধানক্ষেতে এবং জেলে লুকিয়ে ছিল, অথবা লন্ডন ও শিলংয়ে অবস্থান করছিল, তারা জনগণের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা আবারও সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু করেছে। নাহিদ ইসলাম মনে করেন, এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে যে বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রকৃত অর্থে লড়াই করেনি।

নিজের বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন যে এনসিপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে যথাযথ সম্মান দেখায়। কিন্তু তাদের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি বা জমি দখলের মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, অতীতে বঙ্গবন্ধুর নামে ব্যবসা হয়েছে, এখন জিয়ার নামেও ব্যবসা হতে দেওয়া হবে না।

সভায় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ তোলেন যে, হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সন্ত্রাস দমন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যথায় তিনি সরকারের পদত্যাগের আহ্বান জানান।