বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা নামতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ১১ জুন শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের সমাপ্তি হবে ২০ জুলাই। এই টুর্নামেন্টে নিজেদের জাতীয় দলের অংশগ্রহণ না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহের কমতি দেখা যায়নি। বরং বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে দেশজুড়ে। প্রিয় দলের জয়-পরাজয় নিয়ে আবেগের বন্যায় ভাসছে সবাই।
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা ও গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ফুটবলের এই উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ চোখে পড়ার মতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, নর্থসাউথ, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রিয় দলের পতাকা নিয়ে ফ্ল্যাশমব করছে এবং বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছে। এছাড়াও ছোট-বড় মাঠগুলোতে শিশু, কিশোর ও তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সীদেরও ফুটবল খেলায় মেতে উঠতে দেখা যাচ্ছে। সবাই নিজের প্রিয় তারকার জার্সি পরে মাঠ মাতিয়ে তুলছে।
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জরিপ অনুযায়ী, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার ভক্তরা সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও নেইমারের ব্রাজিলের অনুরাগীরাও কম নয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে এই দুই দলের পক্ষে শোভাযাত্রা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এই দুই দেশের পতাকার ছড়াছড়ি দেখা গেছে।
অবশ্য এ বছর অন্যান্য দলের প্রতিও সমর্থনের কমতি ছিল না। জার্মানির ভক্তদের সংখ্যা আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা কম থাকলেও তারাও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। জামাল মুসিয়ালার জার্মানির পতাকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নজর কেড়েছে। জার্মান রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশি ভক্তদের এই ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে তাদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করেছেন। এছাড়াও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ বিবেচনায় এবার পর্তুগালের সমর্থকের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে পর্তুগালের পতাকা ও জার্সি পরে র্যালিতে অংশ নিয়েছেন। ইরান, মরক্কো, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর সমর্থকদেরও বিশ্বকাপের এই উন্মাদনায় শামিল হতে দেখা গেছে।
একইসঙ্গে আর্জেন্টিনা ও নরওয়েসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের উন্মুক্ত স্থানে সাধারণ দর্শকদের সাথে বসে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করার ঘটনাও সামনে এসেছে। ভক্তদের মাঝে প্রিয় দলের খেলা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ, যুক্তিতর্ক আর প্রতিপক্ষকে হারানোর উল্লাস যেন থামছেই না।
বিশ্বকাপ মানেই বাঙালির কাছে ফুটবলের উৎসব। এই মাসব্যাপী টুর্নামেন্টে যেমন বর্তমান তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড, জুড বেলিংহামরা আলোচনায়, তেমনি মেসি-রোনালদো-নেইমারদের শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে আবেগেরও শেষ নেই। একটি প্রজন্ম হয়তো বুঝে যাচ্ছে, এটাই তাদের আইডলদের শেষ বিশ্বকাপ। তবে নতুন প্রজন্মের আইডলদের নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে ফুটবলভক্ত কোটি কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপের দিনগুলো যেন অমর হয়ে থাকবে।


