পাবনার বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম মহল্লায় অবস্থিত চিত্রশিল্পী হাসমত আলীর বাড়িটি বুধবার দুপুরে শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচকে ঘিরে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল নিজেদের শরীরে আকাশি-সাদা পতাকা অঙ্কন করানোর জন্য। হাসমত আলী, যিনি পেশায় একজন চিত্রশিল্পী এবং সাধারণত সাইনবোর্ড, ব্যানার ও বিলবোর্ড তৈরি করেন, বিশ্বকাপ এলে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি বিনামূল্যে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের গালে, হাতে ও কপালে দেশটির জাতীয় পতাকা এঁকে দেন।
চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের শরীরে পতাকা অঙ্কন করেছেন হাসমত আলী। আজ রাতের সেমিফাইনাল ঘিরে আরও পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির শরীরে পতাকা আঁকার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এর আগে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও তিনি একই উদ্যোগে কয়েক হাজার মানুষের শরীরে পতাকা এঁকে সাড়া ফেলেছিলেন।
হাসমত আলী জানান, আর্জেন্টিনার প্রতি তার গভীর ভালোবাসাই তাকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ গোটা পরিবারই আর্জেন্টিনার সমর্থক। পতাকা আঁকাতে আসা কারও কাছ থেকে তিনি কোনো অর্থ গ্রহণ করেন না। মানুষের আনন্দে অংশীদার হতে পারাকেই তিনি সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে মনে করেন। পতাকা আঁকার জন্য রং কিনতে তার মাত্র পাঁচ থেকে ছয়শ টাকা খরচ হয়েছে, যা তিনি আনন্দের সঙ্গেই বহন করেন।
পতাকা আঁকাতে আসা কয়েকজন শিশু জানায়, আর্জেন্টিনার খেলা থাকলে তারা হাসমত আলী চাচার কাছে চলে আসে। তার আঁকা পতাকা অত্যন্ত সুন্দর হয় এবং পতাকা না আঁকিয়ে খেলা দেখার আনন্দ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। অনেক অভিভাবক সড়কে রিকশা থামিয়ে তাদের সন্তানদের শরীরে পতাকা আঁকিয়ে নিচ্ছিলেন।
মনজুর কাদের মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ মন্তব্য করেন, বিশ্বকাপ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি এক সামাজিক উৎসব। হাসমত আলীর স্বেচ্ছাসেবী এই উদ্যোগ উৎসবের আমেজকে আরও বর্ধিত করেছে। তিনি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই শিশু-কিশোরদের আনন্দে ভাগীদার হয়েছেন।
আজ রাতে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করলে শুক্রবার ভোর থেকেই হাসমত আলীর উঠানে আবারও সমর্থকদের ভিড় জমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপকালীন সময়ে এই চিত্রশিল্পীর বাড়ি পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা ভক্তদের প্রাণকেন্দ্রে।


