ময়মনসিংহ নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার পর তাঁর যানটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানাধীন চর ঈশ্বরদিয়ার কাশেম ডাক্তারের কলাবাগানে এই জঘন্য ঘটনা সংঘটিত হয়। নিহত চালকের নাম রাজীব মিয়া। তার বয়স ২৫ বছর। তিনি সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানকান্দা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা পেরোনোর পর রাজীব নিজ বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে রওনা দেন। বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরত্বে ইউনিয়ন পরিষদ-সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে তিনি সন্ত্রাসীদের খপ্পরে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতরভাবে জখম করে। তারপর তারা রাজীবের অটোরিকশাটি হাতিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চম্পট দেয়।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সদস্য স্বপন সরকার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলটি তার বাড়ির নিকটবর্তী। রাতে হঠাৎ বিকট চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ পেয়ে তিনি ও প্রতিবেশীরা দৌড়ে বাইরে বেরোন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা একটি অটোরিকশা অতি দ্রুতগতিতে পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষ করেন। পরে কলাবাগানের অভ্যন্তরে তল্লাশি চালিয়ে রক্তমাখা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখতে পান। তবে ততক্ষণে তার শরীরে প্রাণের স্পন্দন আর ছিল না।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজীবের মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এই ঘটনার তদন্ত করছেন কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ আর এম সাফায়েত ওসমান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, নিহতের মাথায় নির্বিচারে কোপের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশাটি লুট করাই ছিল এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল প্রেষণা। বর্তমানে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের আটকের জন্য জোরার চেষ্টা চলছে, পাশাপাশি ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি পুনরুদ্ধারেও অভিযান অব্যাহত আছে। এসআই আরও নিশ্চিত করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।




