জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে যোগদানের জন্য সচিবালয়ে হাজির হয়ে চার ব্যক্তি আটক হয়েছেন। মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার মিল না থাকায় প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। আটক ব্যক্তিরা হলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের মো. আ. আলিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালীর মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর মো. রাসেল রানা লিটন ও গাজীপুরের শ্রীপুরের মো. মাসুদ ফকির।

ঘটনার সূত্রপাত আজ সকাল ১০টায়। নিয়োগপ্রাপ্তদের সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (প্রশাসন অধিশাখা) কাছে যোগদানপত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নজরে আসে যে, মৌখিক পরীক্ষার সময় সংরক্ষিত ছবির সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের চেহারার পার্থক্য রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, মৌখিক পরীক্ষায় তাঁদের পক্ষে অন্য ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছিলেন। নিজেরা সেই পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন না বলে স্বীকার করার পর তারা লিখিত বক্তব্যও দেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৫ মে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অফিস সহায়ক পদে মোট ২৩ হাজার ৭০৯ জন আবেদন জমা দেন। ১৯ জুন পাঁচটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেন ৯ হাজার ৩১৮ জন। তাদের মধ্য থেকে পরবর্তী ধাপের জন্য ১০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৪ জুন থেকে ২৮ জুনের মধ্যে। মো. আ. আলিমের পরীক্ষা ২৪ জুন, মো. আলী হায়দার ও মো. রাসেল রানা লিটনের পরীক্ষা ২৫ জুন এবং মো. মাসুদ ফকিরের পরীক্ষা ২৮ জুন নির্ধারিত ছিল। প্রতিটি পরীক্ষা বেলা দুইটায় শুরু হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতিটি প্রার্থীর প্রবেশপত্রসহ ছবি তোলা হয়েছিল রেকর্ডের জন্য।

গত ৬ জুলাই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে অফিস সহায়ক পদে ২০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। একই দিনে তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করে মন্ত্রণালয়। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের আজকের তারিখে যোগদানের নির্দেশ ছিল।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনধারী ব্যক্তি ও চার আটক ব্যক্তির চেহারায় অমিল পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আটকরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেন এবং জানান, তাঁদের পক্ষে অন্য ব্যক্তিরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে আবেদন করেছিলেন ২ হাজার ৭৮৪ জন। অফিস সহায়ক পদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ হাজার ৩১৮ জনের মধ্য থেকে ১০৭ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।