যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটের বহরে হামলার মামলায় আরও দুইজন সাক্ষী তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে তারা সাক্ষ্য প্রদান করেন। এ সময় মোহাম্মদপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক গ্রীশ চন্দ্র বর্মণ ও আজমল হোসেন সাক্ষী হিসেবে হাজির হন। সাক্ষ্য শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তাদের জেরা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত নয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী তৌহিদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার দিন রোববার আসামিরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। মামলার আসামিরা হলেন নাইমুল হাসান, মোহাম্মদ ইশতিয়াক মাহমুদ, ফিরোজ মাহমুদ, মীর আমজাদ হোসেন, সাজু ইসলাম, রাজীবুল ইসলাম, শহিদুল আলম খান, সিয়াম ও অলি আহমেদ। এদের সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানার সভাপতি বা অন্য পদে রয়েছেন বলেও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার ঘটনাপ্রবাহ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট রাতে বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এরপর সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুর রউফ ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ১৯ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
ওই মামলায় ২০২২ সালের ২৮ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়জন সাক্ষ্য দেন। সেসময় বদিউল আলম মজুমদার, খুশি বেগম ও মাহবুবুল আলম মজুমদার তাদের জবানবন্দিতে মোহাম্মদ ইশতিয়াক মাহমুদের নাম উল্লেখ করেন।
পরবর্তীকালে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন সিএমএম রেজাউল করিম চৌধুরী মামলাটি আরও তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন। ডিবির সহকারী পুলিশ সুপার রাজন সাহা ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ ইশতিয়াক মাহমুদসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সবশেষে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরুর আদেশ দেন।




