যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সান ডিয়েগোর মিরামার বিমানঘাঁটির কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে মার্কিন মেরিন কোর এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার আগেই পাইলট বিমানটি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন, ফলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও তার আঘাত গুরুতর নয় এবং অবস্থা স্থিতিশীল।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, খোলা মাঠে ধ্বংসাবশেষ হয়ে আছে বোমারু বিমানটি, যেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে উঠছে। সান ডিয়েগো ফায়ার সার্ভিস বিভাগের মুখপাত্র ক্যান্ডেস হ্যাডলি জানান, বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আশপাশের ঝোপে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা রাসায়নিক দ্রব্য ছিটিয়ে ও ফায়ার হোস ব্যবহার করে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। ধ্বংসাবশেষের চারপাশে সামরিক বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের অসংখ্য গাড়ি মোতায়েন করা হয়।
উলেখ্য, মিরামার বিমানঘাঁটিটি এক সময় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রথম সাড়ির যুদ্ধবিমান চালক প্রশিক্ষণকেন্দ্র। হলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘টপ গান’-এর প্রধান প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে স্থানটি ‘ফাইটারটাউন ইউএসএ’ ছদ্মনামে পরিচিতি লাভ করে। পরে ১৯৯৬ সালে ঘাঁটিটি মেরিন কোরের কাছে স্থানান্তর করা হলে এ সকল প্রশিক্ষণ নেভাদার নেভাল এয়ার স্টেশন ফ্যালনে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এফ-৩৫বি হলো একটি বিশেষ সক্ষমতার যুদ্ধবিমান, যা খুব সংক্ষিপ্ত রানওয়ে থেকেও উড্ডয়ন এবং উলম্বভাবে অবতরণ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের (জিএও) এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির নৌ, মেরিন ও বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে ৬৩০টির বেশি এফ-৩৫ রয়েছে। একটি এফ-৩৫বির নির্মাণমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
জিএও’র আরও তথ্যমতে, ভবিষ্যতে আরও ১,৮০০টির বেশি যুদ্ধবিমান কেনা এবং কয়েক দশক ধরে তা রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করা—সব মিলিয়ে পুরো এফ-৩৫ প্রকল্পে ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার।
ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের বিমান নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রেই এখন পর্যন্ত অন্তত সাতটি সামরিক বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহটি ঘটে জুন মাসে। ক্যালিফোর্নিয়ার মোজাভি মরুভূমি থেকে টেক অফ করার কিছুক্ষণ পরেই একটি বি-৫২ বোমারু বিমান ভেঙে পড়ে। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানের আট ক্রু সদস্যই প্রাণ হারান।




