রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে শনিবার সকালে কমপক্ষ নয়জন মারা গেছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা আরও ২৮ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি মস্কো কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা ভয়াবহভাবে বাড়িয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জরুরি ভিত্তিতে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটশকো জানান, শনিবারের এই হামলায় এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী ১০টির বেশি বিস্ফোরণ হয়। পুরো শহরে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শেভচেংকিভস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবন আংশিক ধসে গিয়ে ভেতরে মানুষ আটকা পড়েন। দার্নিৎস্কি জোনায় হামলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, এদের মধ্যে দুটি শিশুও ছিল বলে জরুরি পরিষেবা সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, সলোমিয়ানস্কি জোনায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন আংশিক ধ্বংস হয়ে গেলে দুজনের মৃত্যু হয় এবং আটজন আহত হন, যার মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে।

এ হামলার দুই দিন আগে, পোল্যান্ডে একটি সন্দেহভাজন রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় ইউক্রেনে ব্যাপক হামলায় একটি পরিবারের ছয় সদস্যসহ আটজন নিহত হয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক এই হামলার আগে সপ্তাহের শুরুতেই ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল তৈরির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। ক্যাম্প ডেভিডের মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট নির্মাণের অনুমতি দেয়নি, তবে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “কাউকে এটি তৈরি করতে দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের খুব সতর্ক হতে হবে।”

উন্নত মার্কিন অস্ত্র প্রযুক্তি ভাগাভাগির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প এটিকে “একটি বড় পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি না এটি কখনও হবে, তবে যাদের আপনি সেই প্রযুক্তি দেবেন, তারা একদিন আপনার বিরুদ্ধেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য কয়েক সপ্তাহ আগে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর এলো।

জেলেনস্কি অবশ্য এক্স-এ এক পোস্টে জানান, ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের পর মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সের সাথে তার একটি “ভালো” ফোনালাপ হয়েছে। তিনি লেখেন, “রাশিয়ার বিমান হামলা যেহেতু অব্যাহত আছে, তাই বিমান প্রতিরক্ষা— বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর— এখন শীর্ষ অগ্রাধিকার।”

এদিকে, ইউক্রেনও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে, যার আওতায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের বেশ কয়েকটি পাইকারি গুদামে আঘাত হেনেছে কিয়েভ। ইউক্রেন দাবি করছে, রুশ বাহিনীর জন্য অযৈব সরঞ্জাম ক্রয় ও সরবরাহ বিঘ্নিত করতেই তারা এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।